Monday, July 13, 2026

������������������

��গুণ্ডিচা মার্জন লীলা��

������������������

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ

সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I হরে কৃষ্ণ, আগামী ১৬ বামন, ৩০ আষাঢ়, ১৫ জুলাই বুধবার গৌর – প্রতিপদ বিশেষ শুভদা তিথি। শ্রীপুরীধামে মহাপ্রভুর গুণ্ডিচা মার্জন লীলা।

ধ্যেয়ং সদা পরিভবঘ্নমভীষ্টদোহং 

তীর্থাসস্পদং শিব-বিরিঞ্চিনুতং শরণ্যম

ভৃত্যর্ত্তিহং প্রণতপাল-ভবাদ্ধিপোতং 

বন্দে মহাপুরুষ তে চরণারবিন্দম্ ।। 

ত্যক্ত্বা সুদুস্ত্যজ-সুরেপ্সিত-রাজ্যলক্ষ্মীং 

ধর্মিষ্ঠ-আর্য্যবচসা যদগাদরণ্যম্  

মায়ামৃগং দয়িতয়েপ্সিতমন্বধাবদ্ 

বন্দে মহাপুরুষং তে চরণারবিন্দম্ ।।  (ভাঃ ১১//৩৩-৩৪)                                 

আনন্দ-লীলাময়-বিগ্রহায়, হেমাভ-দিব্যচ্ছবি-সুন্দরায়  

তস্মৈ মহাপ্রেমরস-প্রদায়, চৈতন্যচন্দ্রায় নমো নমস্তে ।।  

 

শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব আরম্ভের পূর্বদিন 'গুণ্ডিচা মাৰ্জন' অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। গৌড়ীয়া মতে রথযাত্রায় প্রভু জগন্নাথ তাঁর মন্দির ছেড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে আগমন করেন। এটা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা ছেড়ে বৃন্দাবনে আগমনের মতো। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্রজে ফিরবেন, এই কথা শ্রবন করে সবচেয়ে আনন্দিত হয়েছিলেন গোপিনীগণ ব্রজেশ্বরী শ্রীমতী রাইকিশোরী। মহাপ্রভুর মধ্যে রাধাভাব প্রকট, তিনি পার্ষদগণকে নিয়ে স্বহস্তে গুন্ডিচা মন্দির মার্জন করতেন। শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এই সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন।

 

জগন্নাথের রথযাত্রার দিবস আইল।।

প্রথমেই প্রভু কাশীমিশ্রেরে আনিয়া।

পড়িছা পাত্র সার্বভৌম আনিল।

তিন জনার পাশে প্রভু হাসিয়া কহিল।

গুণ্ডিচা মন্দির মার্জন সেবা মাগি নিল।।

মহাপ্রভু ভক্তগণের সঙ্গে নিরন্তর কীৰ্ত্তন রঙ্গে ক্রীড়া করেন। আচার্য্যাদি ভক্তগণ মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করেন, মহাপ্রভু সেই সেই স্থানে ভক্তগণকে নিয়ে ভিক্ষা করেন। এই মত নানা রঙ্গে কিছুদিন যাপন করলেন। 

 

ক্রমে শ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রার দিন উপস্থিত হল। তখন মহাপ্রভু প্রথমে কাশীমিশ্রকে ডেকে এনে তাকে দিয়ে পড়িছা পাত্র সার্বভৌমকে ডাকিয়ে আনলেন। মহাপ্রভু হেসে তিনজনকে বললেন আপনারা আমাকে গুণ্ডিচা মন্দির মার্জনের সেবা দিন’’ মহাপ্রভু এই সেবা প্রার্থনা করলে পড়িছা বললেন, "আমরা সকলে আপনার সেবক, আপনার যা ইচ্ছা, সেই অনুযায়ী কাজ করা আমার কর্তব্য, বিশেষতঃ মহারাজ আমাকে আদেশ করেছেন, আপনার ইচ্ছার যেন যথাযথ পালন হয়। তবে প্রভু মন্দির-মার্জন আপনার যোগ্য সেবা নয়, এটি আপনার একটি লীলা

 

তবে একশত ঘট শত সম্মার্জনী ( ঝাঁটা )

নূতন প্রভুর আগে দিল পড়িছা আনি।।

আর দিন প্রভাতে প্রভু লঞা নিজগণ।

শ্রীহস্তে সবার সঙ্গে লেপিল চন্দন।।

শ্রীহস্তে সবারে দিল এক এক মার্জনী।

সব গণ লঞা প্রভু চলিলা আপনি।।

চারিপাশে শত ভক্ত সম্মার্জনী - করে।

আপনে শোধয়ে প্রভু শিখায় সবারে।।

প্রেমোল্লাসে গৃহ শোধে লয় কৃষ্ণনাম।

ভক্তগণ কৃষ্ণকহে, করে নিজ কাম।।

 

গুণ্ডিচা মার্জনের জন্য কলসী ঝাড়ু অনেক আবশ্যক, – তবে আজ্ঞা দিন আজ সেই সব জিনিস এই স্থানে নিয়ে আসি’’ এই কথা বলে পড়িছা নূতন একশত মাটির কলসী একশত ঝাড়ু এনে প্রভুর সামনে অপর্ণ করলেন। পর দিন প্রাতঃকালে প্রভু শ্রীহস্তে নিজ ভক্তগণের অঙ্গে চন্দন লেপন করলেন। প্রত্যেকের হাতে এক একটি মার্জনী দিয়ে সকলকে সঙ্গে নিয়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে গেলেন। গুণ্ডিচা মন্দির মার্জন করতে গিয়ে প্রথমে ঝাড়ু দিয়ে মার্জন করতে লাগলেন। ভিতর মন্দির এবং উপরিভাগ সব পরিষ্কার করে সিংহাসন মার্জন করে চারি ভিত শোধন করার পর শ্রীজগমোহন পরিষ্কার করলেন। 

 

চারপাশে শত ভক্ত হাতে ঝাড় নিয়েছেন, মহাপ্রভু নিজে ভালমতে শোধন করে সকলকে শিক্ষা দিতে লাগলেন, মহাপ্রভু প্রেমোল্লাসে গৃহ শোধন কৃষ্ণ নাম করছেন এবং ভক্তগণও কৃষ্ণ নাম উচ্চারণ করতে করতে নিজেদের কাজ করতে লাগলেন। মহাপ্রভুর ধূলায় ধূসর তনু দেখতে অতীব সুন্দর, কোন কোন ভক্ত অশ্রু জলে মার্জন করছেন। অনন্তর ভক্তগণ ভোগমণ্ডপ শোধন করে প্রাঙ্গণ শোধন করলেন। ক্রমে সমুদায় গৃহ শোধন করে তৃণ, ধূলি কাঁকর একত্র করে ভক্তগণ নিজেদের বস্ত্রে করে পরমানন্দে তৃণ ধূলি সকল বাইরে ফেলতে লাগলেন।

 

তখন প্রভু বললেন, কে কত মার্জন করেছ, খড়কুটা ধূলির পরিমাণ দেখে পরিশ্রম বিচার করব। এই বলে সকলের ঝাড়ু দেওয়া বোঝা একত্র করলেন। সবচেয়ে মহাপ্রভুর বোঝাই অধিক হল। গৃহ মধ্যে মার্জন করার পর পুনর্ব্বার সকলকে কাজ বণ্টন করে দিয়ে বললেন, “তোমরা সকলে সূক্ষ্ম ধূলি কাঁকর দূর করে ভাল করে পরিস্কার কর" সমস্ত বৈষ্ণব দুইবার শোধন করলেন, তা দেখে মহাপ্রভূর মন সন্তুষ্ট হল। তখন অন্য শত জন শত ঘট পূর্ণ করে এনে রাখলেন। যখন মহাপ্রভু বললেন 'জল আন' তখন ভক্তগণ মহাপ্রভুর সামনে জলপূর্ণ শত ঘট এনে দিলেন। 

 

মহাপ্রভু প্রথমে মন্দির প্রক্ষালন করলেন, তারপরে, গৃহের উর্দ্ধ, অধঃ, ভিত, গৃহের মধ্য সিংহাসন ধৌত করলেন, তৎপশ্চাৎ খাপরা (খোলা) ভরে জল উর্দ্ধদেশে নিক্ষেপ করে সেইজলে উর্দ্ধ শোধন করে ভিত প্রক্ষালন করলেন প্রভু প্রথমে মন্দির প্রক্ষালন, তারপরে শ্রীহস্তে সিংহাসনের মার্জন করলেন। ভক্তগণ গৃহ-মধ্য প্রক্ষালন এবং নিজ নিজ হস্তে মন্দির মার্জন করতে লাগলেন। নিত্যানন্দ প্রভু, অদ্বৈতাচার্য্য, স্বরূপ ভারতী আর পুরী বিনা আর সকলে জল বয়ে আনে। কোন ভক্ত মহাপ্রভুর হস্তে জলঘট দেয়, কেহবা মহাপ্রভুর চরণ উপরে জল নিক্ষেপ করে গোপনে সেই জল পান করে, কেহ বা সেই জল প্রার্থনা করে এবং কেহবা সেই জল অন্যকে দান করতে লাগলেন। 

 

তাতে সমস্ত প্রাঙ্গণ জলে পরিপূর্ণ হয়ে রইল। ভক্তগণ নিজ নিজ বস্ত্রে গৃহ সংসাজ্জন এবং প্রভু নিজ বস্ত্রে সিংহাসন মার্জ্জন করলেন। শতঘট জ্বলে মন্দির মার্জিত হল। নিজেদের মনের মত করে মন্দির শোধন করলেন, মন্দিরকে নিৰ্ম্মল শীতল স্নিগ্ধ করে আপনার হৃদয়কে যেন প্রকাশিত করলেন। শতশত লোক সরোবরে জল ভরেন, ঘাটে স্থান না পেয়ে কেহবা কূপে জল ভরতে লাগলেন, একশত ভক্ত পূর্ণকুম্ভ নিয়ে আসতে লাগলেন, আর শত ভক্ত শূন্য ঘট নিয়ে যেতে লাগলেন। ঘটে ঘটে ঠোকর লেগে কত ঘট ভেঙ্গে গেল, লোকেরা আবার শত শত ঘট এনে উপস্থিত করল।

 

ভক্তগণ জল ভরেন, গৃহধৌত করেন এবং হরিধ্বনি করেন কৃষ্ণ হরিধ্বনি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাওয়া যায় না। ভক্তগণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ঘট সমপর্ণ এবং কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ঘট প্রার্থনা করতে লাগলেন। সকল কৰ্ম্মেই কৃষ্ণনাম সঙ্কেত হয়ে উঠল। মহাপ্রভু প্রেমাবেশে কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম উচ্চারণ করতে করতে একাকী শত লোকের কর্ম্ম করতে লাগলেন, শত হস্তে যেন ক্ষালন মার্জন করেন এবং প্রত্যেক লোকের নিকট গিয়ে তাদেরকে কার্য্যের শিক্ষা প্রদান করেন যে ব্যক্তি ভাল কর্ম করেন, তাকে প্রশংসা এবং মনোমত না হলে তাকে মিষ্ট ভর্ৎসনা করেন। 

 

অন্যকে বলেন,“ তুমি ভাল কাজ করছ, প্রভু জগন্নাথের সেবাকার্য্য কিভাবে উত্তমরূপে করতে হয়, অন্যকেও শিখিয়ে দাও এই কথা শুনে সকলে সঙ্কুচিত হয়ে মনোনিবেশ সহকারে ভালভাবে কাজ করতে লাগল। এর পর মহাপ্রভু জগমোহন (মন্দিরের নিকট ক্ষুদ্র মন্দির) প্রক্ষালন করে ভোগমণ্ডপ প্রক্ষালন করলেন। তারপর নাটশালা ধুয়ে চত্বর প্রাঙ্গণ ধুলেন, পাকশাল, মন্দিরের চতুর্দিক এবং সমুদায় অন্তঃপুর উত্তম রূপে ধৌত করালেন।

 

হেনকালে এক গৌড়ীয়া সুবুদ্ধি সরল।

প্রভুর চরণ যুগে দিল ঘট জল।।

সেই জল লৈয়া আপনে পান কৈল।

তাহা দেখি প্রভুর মনে দুঃখ রোষ হৈল।।

ভক্তেরা জানে স্বয়ং যিনি রথে চড়ে আসবেন তিনিই বঙ্গপ্রদেশে শচীনন্দন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। এই সময়ে একজন সরল বুদ্ধি গৌড়ীয়া মহাপ্রভুর চরণে এক ঘট জল অর্পণ করে সেই জল নিজে পান করল, তা দেখে মহাপ্রভুর মনে দুঃখ রোষ উৎপন্ন হল। যদিও মহাপ্রভু তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, তথাপি ভক্তকে জীবশিক্ষার নিমিত্ত  শিক্ষার জন্য বাইরে রোষ প্রকাশ করলেন। 

 

সেই ভক্ত তখন মহাপ্রভুর চরণ ধরি ক্ষমা চাইলো,-

পুনঃ আসি প্রভুর পায় করিল বিনয়।

অজ্ঞ অপরাধ ক্ষমা করিতে জুয়ায়।।

তবে মহাপ্রভু মনে সন্তোষ হইলা।

সারি করি দুই পাশে সব বসাইলা।।

গুণ্ডিচা মন্দির মার্জনের পর সরোবরে স্নান, কীর্ত্তন, মহাপ্রসাদ ভোজন করেছিলেন মহাপ্রভু তাঁর ভক্ত মণ্ডলী সহিত।

 

��গুণ্ডিচা মন্দির মার্জন মহিমা��

����������������������

রথযাত্রার দিন শ্রীজগন্নাথ গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। সারা বছরের / দিন সেখানে থাকেন। আর পৌনে বার মাস গুণ্ডিচা মন্দির ফাঁকা থাকে। এক বছরের ধুলো বালি ময়লা মন্দিরে জমে আছে। পড়িছার দ্বায়িত্ব মন্দির পরিস্কার করা। কিন্তু শ্রীমন্মহাপ্রভু পড়িছার কাছে এই দ্বায়িত্ব চাইয়া লইলেন। সাংসারিক জীবের কাছে ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করা হীন কাজ, দাস দাসীদের কাজ। কিন্তু শ্রীমন্মহাপ্রভু যিনি স্বয়ং গোলক বিহারী শ্রীকৃষ্ণ, যিনি অনন্তকোটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর, অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডের ব্রহ্মা, কত কত রুদ্র যার চরণ সেবার জন্য লালায়িত আজ তিনি কি করছেন? আজ তিনি নিজের শ্রীহস্তে গুণ্ডিচা মন্দির পরিস্কার করার দ্বায়িত্ব নিলেন। কি তার যোগ্য কর্ম? এই গুণ্ডিচা মার্জন লীলার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

 

শ্রীমন্মহাপ্রভু দুটি ভাব। ভক্তভাব এবং ভগবত ভাব। ভক্তভাবে শ্রীমন্মহাপ্রভু আমাদের নিজে আচরণ করে জীবকে শিক্ষা দিলেন। এই শিক্ষা সেই দয়াময় না দিলে আর কে দেবেন? মন্দির মার্জন কর্মটি জগন্নাথের জন্য। সুতরাং এটাও ভজনাঙ্গ। যে ভজনাঙ্গে ভগবত কৃপা লাভ সম্ভব। গুণ্ডিচায় এক বছরের ধুলো ময়লা জমে আছে, সেখানে আমার প্রাণপ্রিয় জগন্নাথ কেমন করে থাকবেন, এই কথা ভেবে ভগবত প্রেমিক ভক্তের হৃদয় বিকল হয়ে যায় ভগবানের প্রতি ভক্তের প্রীতির আধিক্য জনিত। সন্তান যখন শরীরে ময়লা মেখে রাখে তখন দাস - দাসী নয়, মা ছুটে আসেন সন্তানকে পরিস্কার করার জন্য কারণ সন্তানের প্রতি মায়ের প্রীতির আধিক্য। কাজ কি কোনো হীন কাজ হইতে পারে? দক্ষিনাঞ্চলের স্বাধীন নরপতি প্রতাপ রুদ্র রাজাও নিজে রথাগ্রে চন্দন সুবাসিত জল ছড়িয়ে ঝাড়ু দিতেন।

 

গুণ্ডিচা মার্জন লীলাটিতে প্রভুর ভগবত ভাবও আছে। ভগবানতো শুধুমাত্র সেবা গ্রহণ করেন কিন্তু সেবা করে যে কত সুখ কি তার আনন্দ তা আস্বাদনের লোভেও প্রভু গুণ্ডিচা মার্জনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কৃষ্ণ লীলাতেও  প্রভু  একই কাজ করেছিলেন। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে ব্রাহ্মণদের পাদ প্রক্ষালনের ভার নিয়েছিলেন। ব্রাহ্মণের পদসেবায় যে আনন্দ তার লোভ চতুর চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণ ত্যাগ করতে পারেননি। জীবশিক্ষার জন্য তিনি দেখিয়ে দিলেন যে,"যিনি বড় তিনিই হীন সেবা করতে পারেন" কিন্তু কৃষ্ণলীলার মতো গুণ্ডিচা মার্জন লীলার আনন্দ প্রভু একা ভোগ করেন নি। প্রভূ আমাদের দাতার শিরোমণি, তাই প্রিয় পার্ষদ সকলকেই আনন্দের ভাগ দিলেন। অল্প অল্প ভাগ নয়, প্রভু বললেন,-

"কে কত কুড়ায় সব একত্র করিব। 

যার অল্প তাঁর ঠাঞি পিঠা পানা লব।।"

অর্থাৎ,- যে যত খুশি পরিশ্রম করে সেবার সুযোগ নিয়ে নাও। 

 

গুণ্ডিচা মার্জন লীলার আরও একটি গুঢ় তাৎপর্য আছে এবং এটাই প্রভু নদীয়া লীলার বৈশিষ্ট্য। শ্রীশ্রী গৌরসুন্দর হলেন রাধাভাবাবিষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীরাধার ভাবে আবিষ্ট হয়ে আজ তিনি গুণ্ডিচা মার্জন করছেন। রথযাত্রার ছলে শ্রীজগন্নাথ বৃন্দাবন লীলারস আস্বাদনের জন্যই মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। শ্রীরাধা ভাবে আবিষ্ট  মহাপ্রভু মনে মনে ভাবছেন, বহুকাল পরে তার প্রাণবল্লভ দ্বারকা থেকে ব্রজে আসবেন তাই তার আনন্দের সীমা নাই। সেই আনন্দের প্রেরণায় প্রাণবল্লভকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সখীদের সঙ্গে নিয়ে বহুকাল পরিত্যক্ত নিকুঞ্জ মন্দির পরিস্কার করছেন। তার ভক্তবৃন্দ সখীবৃন্দ আর তিনি রাধা

��জয় শচীনন্দন শ্রীগৌরহরির জয়��জয় সকল ভক্তবৃন্দের জয়��





 

������ ️ �������� ️ ���� �� গুণ্ডিচা মার্জন লীলা �� ������ ️ �������� ️ ���� শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্ত...