Wednesday, September 27, 2023

💐🏵️💞🌺🌷🌺💞🏵️💐

🌷বৈষ্ণবের ব্যাস পূজা 🌷

💐🏵️💞🌺🌷🌺💞🏵️💐

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ

সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I হরে কৃষ্ণ, আজ বিশেষ শুভদা তিথি। পরম বৈষ্ণব, পরম ভাগবত, সপ্তম গোস্বামী ও শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্ণ কৃপাপাত্র শুদ্ধভক্তি প্রবাহক শুদ্ধভক্তির ভগীরথ শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর মহাশয়ের শুভ আবির্ভাব তিথি পূজা মহা মহোৎসব।

 

''বন্দে ভক্তিবিনোদং শ্রীগৌরশক্তিস্বরূপকম।

ভক্তিশাস্ত্রজ্ঞসম্রাজং রাধারসসুধানিধিম।।''

অর্থাৎ,- সাক্ষাৎ শ্রীগৌরশক্তিস্বরূপ ভক্তিশাস্ত্রজ্ঞ সম্রাট শ্রীরাধারসামৃত সমুদ্র শ্রী শ্রীল ঠাকুর ভক্তিবিনোদকে আমি বন্দনা করি।

 

ঠাকুরের অপ্রাকৃত স্বরূপ তাঁহার কৃপাভিষিক্ত নিজজনগণের হৃদয়ে প্রকটিত। ইনি শ্রীরাধারাণীর প্রধানসখী শ্রীললিতাদেবীর প্রেষ্ঠা শ্রীরূপমঞ্জরীর অনুগতাগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠা। ঠাকুর ভক্তিবিনোদ তাঁহার রচিত গীতিতে নিজের স্বরূপ সম্বন্ধে ইঙ্গিত করিয়াছেন,-

''যুগলসেবায় শ্রীরাসমণ্ডলেনিযুক্ত কর আমায়।

ললিতা সখীর অযোগ্যকিঙ্করী,    বিনোদ ধরিছে পায়।।''   (কল্যাণ কল্পতরু)

ঠাকুর নিজরচিত 'গীতমালা' গীতিগ্রন্থে এবং শ্রীরাধাকুণ্ডে শ্রীললিতাসখীর কুঞ্জে শ্রীব্রজস্বানন্দ সুখদকুঞ্জে ভজনাদর্শ প্রদর্শন করতঃ শ্রীরূপমঞ্জরীর অনুগত 'কমল - মঞ্জরী' রূপে নিজসিদ্ধ পরিচয় প্রদান করিয়াছেন।

 

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীস্বরূপ দামোদর, শ্রীরায় রামানন্দ, ষড় গোস্বামী, শ্রীনিবাস আচার্য্য, শ্রীশ্যামানন্দ প্রভু, শ্রীনরোত্তম ঠাকুর প্রভৃতির অন্তর্ধানের পর গৌড়ীয় - গগনে অন্ধকারযুগ নামিয়া আসিলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিশুদ্ধ প্রেমধর্মের তাৎপর্য্য বুঝিতে অসমর্থ হইয়া বহু অপসম্প্রদায়ের প্রাদুর্ভাব ঘটে। বঙ্গদেশীয় শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিগণ অপসম্প্রদায়ের গাহিত আচরণ দর্শনে শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রেমধর্মকে অশিক্ষিতের, নীচজাতির চরিত্রহীনের ধর্ম্ম মনে করিয়া তৎপ্রতি শ্রদ্ধাহীন হইলেন।

ঔদার্য্যলীলাময় বিগ্রহ শ্রীমন্মহাপ্রভু জীবের দুরবস্থায় দয়ার্দ্রচিত্ত হইয়া, তাঁহাদের আন্তরিক মঙ্গল বিধানের জন্য তাঁহার নিজজন ঠাকুর শ্রীল ভক্তিবিনোদকে জগতে প্রেরণ করলেন। ঠাকুর ভক্তিবিনোদ তাঁহার অলৌকিক শক্তির দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় শতাধিক গ্রন্থ লিখিয়া শুদ্ধভক্তি সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধ মতসমূহ নিরসন করতঃ শ্রীমন্মহাপ্রভুর শিক্ষার অসমোর্দ্ধত্ব সংস্থাপন করিলে শিক্ষিত সমাজ জগদবাসী তৎপ্রতি আকৃষ্ট হইলেন।

 

ঠাকুরকে অবলম্বন পূর্ব্বক ঠাকুরের অধস্তনরূপে বিশ্বব্যাপী শ্রীচৈতন্য মঠ শ্রীগৌড়ীয় মঠসমূহের প্রতিষ্ঠাতা নিত্যলীলাপ্রবিষ্ঠ ওঁ ১০৮ শ্রী শ্রীমদ্ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ আবির্ভূত হইয়া শ্রীল ভক্তিবিনোদ - মনোহভিষ্ট বিপুলভাবে প্রচার এবং

'পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম।

সর্ব্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম।।''

শ্রীমন্মহাপ্রভুর এই বাণীর সার্থকতা সম্পাদন করেন। মানব জাতির সর্ব্বোত্তম পারমার্থিক কল্যাণে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের অবদান অতুলনীয়।

 

‘’তিতিক্ষবঃ কারুণিকাঃ সুহৃদঃ সর্বদেহিনাম্  
অজাতশত্রবঃ শান্তাঃ সাধবঃ সাধুভূষণাঃ ।।‘’ (ভাগবত /২৫/২১)

অর্থাৎ,- ভগবদ্ভক্ত সর্বদাই সহিষ্ণু, অত্যন্ত কৃপা পরায়ণ, সর্বজীবের সুহৃদ, শাস্ত্রানুগ, অজাতশত্রু, শান্ত - এই সকল গুণাবলী সাধুর ভূষণস্বরূপ I

 

কৃষ্ণভক্তের এই সমস্ত গুণই আমরা ঠাকুরের শুদ্ধভক্তিময় জীবনে পরিপূর্ণ রূপে প্রস্ফুটিত দেখিতে পাই। কৃপালু দয়ানিধি গৌরহরি বদ্ধজীবকে নববিধ ভাবে অমন্দোদয়া কৃপা প্রদর্শন করিয়াছেন। তদীয় প্রেষ্ঠ নিজজন শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর মহাশয়েও তাদৃশ্য দয়া - বিতরণের কার্য্য দেখা যায়। শ্রীচৈতন্য মঠ, শ্রীগৌড়ীয় মঠ, শ্রীচৈতন্য গৌড়ীয় মঠ, শ্রীগৌড়ীয় মিশনসমূহে শ্রীকৃষ্ণ ভজনময় দৈনন্দিন কৃত্যসমূহ যাহা অনুষ্ঠিত হইয়াথাকে, তাহার মূলে রহিয়াছেন শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর। শ্রীগৌড়ীয় মঠ প্রতিষ্ঠান ও শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর - দুইটিই অপৃথক। ঠাকুরের অলৌকিক অবদানের নিকট প্রতিষ্ঠান সর্ব্বতোভাবে ঋণী।

 

শ্রীআনন্দ চন্দ্র দত্ত শ্রীজন্মোহিনী দেবীকে পিতামাতা রূপে অঙ্গীকার করতঃ ৩৫২ শ্রীগৌরাব্দ, ১২৪৫ বঙ্গাব্দ  ১৮ ভাদ্র, ১৮৩৮ খৃষ্টাব্দ সেপ্টেম্বর রবিবার শুক্লা ত্রয়োদশী শুভবাসরে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর উলাগ্রামে (বীরনগর) তাঁহার মাতামহের আলয়ে আবির্ভূত হইলেন। পিতামাতা তাঁহার নাম রাখিলেন  শ্রীকেদার নাথ’ অতীব শৈশব কাল হইতে মাত্র দুইবৎসর বয়সে ঠাকুরের জিহ্বায় কবিত্বের স্ফূর্ত্তি হয়। অপ্রাকৃত নিজ সিদ্ধ ভগবৎ - পার্ষদে অপ্রাকৃত ভাবসমূহ স্বয়ং প্রকটিত হইয়া থাকে। বৈকুন্ঠ পুরুষের শ্রীমুখপদ্ম বিনিঃসৃত শব্দ শব্দী ভগবান হইতে অভিন্ন, ইহার সহিত জাগতিক কোনও শব্দের তুলনা হয় না।

 

ঠাকুরের ব্যবহৃত প্রতিটী শব্দ ভগবদ ভাবোদ্দীপক ভক্তিরসপূর্ণ অমৃতময়। মাত্র ছয় বৎসর বয়সে ঠাকুর রামায়ণ মহাভারতের যাবতীয় তথ্য ইতিহাস আয়ত্ত করিয়া ফেলিয়াছিলেন। ভগবৎকৃপা ব্যতীত কেবল পাণ্ডিত্যের দ্বারা সকল ভক্তিশাস্ত্রের যথার্থ তাৎপর্য্য বোধের বিষয় হয় না। তিনি নয় বৎসর বয়সে জ্যোতিষ শাস্ত্র সম্বন্ধে গবেষণা করেন। দশ বৎসর বয়সে তাঁহার চিত্তে তত্ত্ব - জিজ্ঞাসার উদয় হয়। তিনি তত্ত্বজ্ঞানে সর্ব্বদা উদ্ভাসিত থাকিলেও মনুষ্যজন্মের বৈশিষ্ট্য - খ্যাপনের জন্য উক্ত লীলার প্রাকট্য সাধন করেন। এগার বৎসর বয়সে ঠাকুরের পিতৃবিয়োগ হয়। তৎকালীন বঙ্গদেশের সামাজিক প্রথানুযায়ী শ্রীকেদারনাথের জননী বার বৎসর  বয়স্ক বালককে রানাঘাট নিবাসী পাঁচ বৎসরের এক বালিকার সহিত বিবাহ সম্পাদন করিলেন।

 

১৮৫৮ খৃষ্টাব্দে শ্রীল ঠাকুর গৌড়দেশ হইতে নীলাচল যাত্রা করেন। তিনি কটক হইতে পদব্রজে যাত্রা করিয়া চন্দনযাত্রা কালে পুরীতে শ্রীজগন্নাথদেবের পাদপদ্মে পৌঁছেন। কতিপয় দিবস তথায় অবস্থান করিয়া তিনি কটক, ভদ্রক, মেদিনীপুর প্রভৃতি স্থান হইয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসেন। শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহোদয়ের ইচ্ছাক্রমে শ্রীল ঠাকুর কটক সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এবং ভদ্রক সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকতার পদ স্বীকার করিয়াছিলেন। ঠাকুর  'শ্রীচৈতন্য গীতা' নামক একটী গ্রন্থ লিখিয়া তাহাতে নিজেকে 'সচ্চিদানন্দ প্রেমালঙ্কার' রূপে পরিচয়  প্রদান করিয়াছেন।

 

৪০০ শ্রীগৌরাব্দে  শ্রীগৌড়ীয় - গোস্বামীসংঘ কর্তৃক ঠাকুর 'ভক্তিবিনোদ' এই নামে ভূষিত হন। তৎপর হইতেই শ্রীকেদারনাথ 'শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর পুরীতে অবস্থানকালে (১৮৬৯ হইতে ১৮৭৪) বেদব্যাস মুনিরচিত শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীল জীবগোস্বামী রচিত ষট সন্দর্ভ, শ্রীল বলদেব বিদ্যাভূষণ রচিত বেদান্তের গোবিন্দভাষ্য, সিদ্ধান্তরত্ন, প্রমেয়রত্নাবলী অন্যান্য গ্রন্থ, শ্রীল রুপগোস্বামী রচিত শ্রীভক্তিরসামৃত সিন্ধু বিশেষভাবে আলোচনা অধ্যয়ন লীলারূপ আদর্শ প্রদর্শনের দ্বারা নিঃশ্রেয়সার্থীর পক্ষে শুদ্ধভক্তি সিদ্ধান্ত সম্মত সব গ্রন্থানুশীলনের আবশ্যকতা বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করিলেন।

 

শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরকে অবলম্বন করিয়া শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের আবির্ভাবের পর পুরুষোত্তম ধাম হইতে সমগ্র পৃথিবীতে কৃষ্ণভক্তি প্রচারিত হওয়ায় শ্রীবেদব্যাস মুনি রচিত পদ্মপুরাণোক্ত 'হ্যুৎকলে পুরুষোত্তমাৎ' বাক্যের যথার্থতা প্রতিপন্ন হয়। শ্রীমন্মহাপ্রভু তদ্পার্ষদগণের অন্তর্ধানের পর শুদ্ধভক্তিপথ - ভাগবৎধর্ম্মের পথ কোটী কন্টকরুদ্ধ হইলে, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর অবতীর্ণ হইয়া বহু গ্রন্থ লিখিয়া এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের সহিত প্রচার করিয়া সেই সমস্ত শুদ্ধভক্তি প্রতিকূল অপসিদ্ধান্ত সমূহ খণ্ডন করিয়া জীবের যে আত্যন্তিক মঙ্গল এবং করুণা প্রদর্শন করিয়াছেন, তাহা অসমোর্দ্ধ বলিতে হইবে। শ্রীকৃষ্ণ শক্তি ব্যতীত কৃষ্ণভক্তি প্রচার হয় না।

 

সাক্ষাৎ গৌরপার্ষদ বা কৃষ্ণপার্ষদ ব্যতীত এইরূপ অদ্ভুত শক্তির প্রাকট্য সম্ভব নহে। পরমারাধ্য শ্রীল পরম গুরুমহারাজ নিত্যলীলা প্রবিষ্ট ওঁ ১০৮ শ্রী শ্রীমদ্ভক্তিদয়িত মাধব গোস্বামী মহারাজ তাঁহার শিষ্যগণকে এইরূপ বলিতেন,- ''তোমাদের আর কিছুই করিতে হইবে না, কেবলমাত্র ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের গ্রন্থ সমূহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করিয়া প্রচার করিতে পারিলেই জগজ্জীবের সর্ব্বোত্তম কল্যাণ সাধিত হইবে। ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দের গূঢ় প্রেমরস আস্বাদনে সর্ব্বক্ষণ সংরৎ থাকিবার জন্য ঠাকুর শ্রীভাগবত পরমহংসবেস গ্রহণ করিয়াছিলেন। ১৯১৪ খৃষ্টাব্দে ২৩শে  জুন, ১৩২১ সালের ৯ই  আষাঢ় শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর কলিকাতায় ভক্তিভবনে গৌরশক্তি  শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামীর  অপ্রকট তিথিবাসরে  শ্রীরাধাকুণ্ডের মাধ্যাহ্নিক লীলায়  প্রবিষ্ঠ  হইলেন। 

 

প্রার্থনা করি যেন আজকের অশান্তিময়  পৃথিবী পুনরায় শান্তিময় হয়ে উঠুক। সব অন্যায় অত্যাচার যেন তাঁর করুণায় দূর হয়। সব সৎ শক্তির জাগরণে জগৎবাসী যেন মুক্তির পথ খুঁজে নিতে পারে। হৃদয়ের ভীরুতা কাটিয়ে  আত্মশক্তিতে বলিয়ান হয়ে অন্যায়কে যেন প্রতিহত করে ন্যায়  সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে পৃথিবীর সর্বত্র।  পুণ্য লগ্নে শ্রীরাধাকৃষ্ণের শ্রীচরণে এই হোক আমাদের সবার প্রার্থনা।

 

হে নাম ! করুণা সিন্ধু অধম জনার বন্ধু

স্বকৃপায় এসেছ ভুবনে।

গোলোকের প্রেমধন হরিনাম সংকীর্ত্তন

কৃপা কর অধম দুর্জনে।।

নাম নামি ভেদ নাই দুই এক যেন ভাই

নাম রুপে নামি অবতার।

 কলি যোর তিরে গ্রাসল  জগতেরে

নাম অর্ক করেন উদ্ধার।।

অন্যাশ্রয় নাহি মানি একাশ্রয় নাম জানি

কায় মনে লয় যে শরণ।

যেন তারে নাম প্রভু না ত্যাগ করেন কভু

নিজ গুণে দেন শ্রীচরণ।।

শ্রীনামের দুটি পদ যে করে হৃদি সম্পদ

দুই হাতে করিয়া ধারণ।

আর কিছু নাহি জানে শুধু নাম সেবা বিনে

নাম শুধু সাধন ভজন।।

যদি কেহ নাম তারে লও ভক্তি অঙ্গ মোরে

ছেড়ে ধামে বাস গুরু পদাশ্রয়।

সাধু সঙ্গ হরি কথা পূজার্চ্চনা তীর্থ যাত্রা

বিবিধ ভকতির উদয়।।

কহে নামাশ্রয়ী তাঁরে না দিব  চরণ ছেড়ে

আছি দুই হাতে হৃদয়ে ধরিয়া।

খোলা আছে তব কর যদি প্রয়োজন মনে কর

কৃপা করি দাও গো আনিয়া।।

তোমা ছাড়ি নাহি জানি কোথায় খুঁজিব আমি

সাধু গুরু ভক্তি শুভ অঙ্গ।

যদি দাও আনি তুমি গ্রহণ করিব আমি

মোর ব্রত না হইবে ভঙ্গ।।

একে কহে নামাশ্রয় অন্য দিকে নাহি চায়

তারে ‘কলি’ না পারে গো দিতে বাধা।

হও মন নামাশ্রয়ী হইও না(মাত্রনাম গ্রহী

নামের চরণে রবে বাঁধা।।

নামে সর্ব্বশ্রষ্ঠ জ্ঞান কায় মনে কর ধ্যান

জপ নাম কর সংকীর্ত্তন।

নাম সম কেহ নয় জানিও  সুনিশ্চয়

নাম হতে ভক্তির উদ্গম।।

বীজ হতে হয় যথা বৃক্ষ লতা পুষ্প পাতা

নাম বীজে ভক্ত্যঙ্গ প্রকাশ।

নামাশ্রয় করি ভজে তারে নাম নাহি ত্যজে

অপরাধ হতে পায় রক্ষা।।

আর কিছু নাহি চাই (যেনহতে পারি নামাশ্রয়ী

নামের চরণে এই ভিক্ষা।।

 অধম দাসে কয় ধরিয়া শ্রীনাম পায়

প্রসন্ন হও গো একবার।

অপরাধে জর জর পাপ দোষে গর গর

তোমা বিনা গতি নাহি আর।।।

🌳🌴🦚💐🏵🌺🌷🌺🏵💐🦚🌴🌳




 

💐🏵️💞🌺🌷🌺💞🏵️💐 🌷 বৈষ্ণবের ব্যাস পূজা 🌷 💐🏵️💞🌺🌷🌺💞🏵️💐 শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্ত...