Monday, June 8, 2026

��������������

��পরমা একাদশী��

��������������

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ

সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I হরে কৃষ্ণ, আগামী ২৬ পুরুষোত্তম ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১১ জুন বৃহস্পতিবার কৃষ্ণ - একাদশী। পরমা একাদশীর উপবাস I  (পারণ - পরদিন পূর্ব্বাহ্ন ০৯।২৩ মিঃ মধ্যে একাদশীর পারণ) I আপনি নিজে একাদশী ব্রত পালন করুন ও অন্যকে পালনে উৎসাহিত করুন।

 

‘’তুণ্ডে তাণ্ডবিনী রতিং বতনুতে তুণ্ডাবলী লব্ধয়ে  

কর্ণ ক্রোড়কড়ম্বিনী ঘটরতেকর্ণা র্ব্বুদেভ্যঃ স্পৃহাং  I I

চেতঃ প্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সৰ্ব্বেন্দ্রিয়াণাং কৃতিং  

নোজানে জনিত কিয়ন্তিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতিবর্ণদ্বয়ী  I I‘’  (বিদগ্ধ মাধব)

অর্থাৎ,- ''কৃষ্ণ'' এই দুইটি বর্ণ যে কি পরিমাণ অমৃতদিয়া গঠিত হইয়াছে তাহা জানিনা যখন ইহা রসনাতে নৃত্য করিতে থাকে, তখন আরও বহু রসনা লাভ করিতে ইচ্ছাহয়, যখন কর্ণরন্ধ্রে অঙ্কুরিতহয়, তখন অৰ্ব্বুদ সংখ্যক কৰ্ণ পাইবার জন্য স্পৃহা জন্মে,  এবং চিত্ত প্রাঙ্গণে প্রবিষ্ট হইলে সমুদায় ইন্দ্রিয় ব্যাপার ইহার নিকট পরাস্ত হইয়া যায় এই মাধুর্য্য- রস সিঞ্চিত হরিনাম- মাহাত্ম্য- ব্যঞ্জক অপূর্ব শ্লোক পাঠ করিতে করিতে রাশিক ভক্তগণ প্রেমাবিষ্ট হইয়া পড়েন     

 

''কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ

অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।''     চৈতন্যচরিতামৃত( মধ্য ২০/১১৭)

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড় প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই মায়া তাকে জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান, কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণে আদি শাস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন। 

 

ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়। শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বত্তোম। শ্রবণ, কীর্ত্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেরই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগিতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

 

একাদশী ব্রত পালনের নিয়ম :-
সামর্থ্য অনুযায়ী দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, দ্বাদশীতে একাহার।
এতে অসমর্থ হলে শুধু একাদশীতে অনাহার। যদি এতেও অসমর্থ হয়, একাদশী তে পঞ্চশস্য বর্জনীয়, ফলমূল কিছু সবজি গ্রহণের বিধান আছে। যেমন-গোল আলু, মিষ্টি আলু, কুমড়ো,চাল কুমড়ো, বাদাম তেল/সূর্য্যমুখী তেল/ঘি দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ  করে আহার করা যেতে পারে। এছাড়া দুধ, কলা,আপেল, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, শসা, নারিকেল, মিষ্টি আলু ইত্যাদি ফল আহার করা যাবে। একাদশীর পারণের সময় পঞ্জিকা তে দেওয়া থাকে, এর মাঝে ভগবান কে অন্ন নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করতে হবে। নতুবা একাদশীর ফল লাভ হয়না।

বর্জনীয় পঞ্চ শস্য:-
ধান জাতীয় খাদ্য- ভাত,খিচুড়ি,মুড়ি, চিঁড়া,খই, সুজি, চালের গুঁড়ো, চালের পিঠে,
পায়েস। গম জাতীয় খাদ্য- আটা, ময়দা,সুজি,রুটি,বিস্কুট, কেক,নুডলস। যব বা ভুট্টা জাতীয় খাদ্য- ছাতু, খই, রুটি। ডাল জাতীয় খাদ্য- মুগ, মশুর, মটর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, বরবটি, শিম, বুট। সরিষা, তিলের তেল।( সয়াবিন এর কথা বিতর্কিত) I চা, বিড়ি, সিগারেট,পান, যেকোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য বর্জনীয়।
একাদশী তে সহবাস সম্পূর্ণ বর্জন। আমিষ ( পিঁয়াজ, রসুন, ডিম, মাছ, মাংস ) ভক্ষন নিষেধ।

����������������������

��পরমা একাদশী মাহাত্ম্য��

����������������������

চলছে পুরুষোত্তম মাস বা মলমাস। স্মার্তগণ পুরষোত্তম মাস বা অধিমাসকে মলমাসবলে এই মাসে সমস্ত শুভকার্য পরিত্যাগ করে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মাসকে পারমার্থিক মঙ্গলের জন্য অন্য সকল মাস থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে নির্ণয় করেছেন। তিনি নিজের নামানুসারে এই মাসের নাম পুরুষোত্তম’  মাস রেখেছেন।

 

মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন,- হে কৃষ্ণ! পুরুষোত্তম মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম কি এবং এর বিধিই বা কি? দয়া করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন,- হে যুধিষ্ঠির! সুখভোগ, মুক্তি, আনন্দ প্রদানকারী, পবিত্র এবং পাপবিনাশিনী এই একাদশীর নাম 'পরমা' পূর্বে বর্ণিত একাদশীর বিধি অনুসারেই এই ব্রত পালন করা কর্তব্য। এখন এই ব্রত বিষয়ে এক মনোহর কাহিনী তোমাকে বলব। কাম্পিল্য নগরে মুনিঋষিদের কাছে আমি তা শুনেছিলাম।

 

কাম্পিল্য নগরে সুমেধা নামে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল পবিত্রা। তিনি অত্যন্ত পতিব্রতা ছিলেন। কিন্তু পূর্ব কর্মফলে এই ব্রাহ্মণ ধনহীন হয়ে পড়েন। ভিক্ষা চেয়েও তার কিছুই জুটত না। কিন্তু তাঁর স্ত্রী নিজ পতির সেবা নিষ্ঠা সহকারে করতেন। গৃহে অতিথিসেবার জন্য প্রয়োজনে অনাহারে থাকতেন। স্বামীকে কখনও বলতেন না যে গৃহে অন্ন নেই। পত্নীর শারিরীক দূরাবস্থার কথা চিন্তা করে ব্রাহ্মণ নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করতেন। একদিন পত্নী প্রিয়ংবদাকে বললেন,- হে কান্তে! আমি ধনবান মানুষদের কাছেও ভিক্ষা চেয়ে পাই না। বলো এখন আমি কি করব? ধন সংগ্রহের জন্য আমি অন্য কোথাও যেতে চাই। তুমি আমাকে অনুমতি দাও।

 

ব্রাহ্মণপত্নী তখন তাঁকে বললেন,- হে বিদ্বান! জগতে মানুষ তার পূর্বসঞ্চিত ফল ভোগ করে। পূর্বজন্মে কোন ফল না থাকলে স্বর্ণপর্বতে গেলেও কিছু পাওয়া যাবে না। হে স্বামী, পূর্বজন্মে আমি অথবা আপনি কেউই ধনসম্পদ ইত্যাদি কোন কিছুই সৎপাত্রে দান করিনি। তাই আমাদের ভাগ্যে যা আছে তা এখানে থেকেই লাভ হবে। আপনাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারব না। কেননা পতীহীনাকে দুর্ভাগা বলে সবাই তখন নিন্দা করবে। অতএব এখানে যা ধন লাভ হয় তা দিয়ে দিনযাপন করুন।ঐ বিচক্ষণ ব্রাহ্মণ, পত্নীর কথা শুনে নগরেই রইলেন। 

 

একদিন মুনিশ্রেষ্ঠ কৌণ্ডিন্য সেখানে এলেন। তাঁকে দেখে সুমেধা খুব খুশি হলেন। ব্রাহ্মণ সস্ত্রীক মুনিকে প্রণাম জানালেন। সুন্দর আসন দিয়ে তাঁর পূজা করলেন। দম্পতি আনন্দ সহকারে মুনিকে ভোজন করালেন। এরপর ব্রাহ্মণপত্নী জিজ্ঞাসা করলেন,- হে মুনিবর! কিভাবে দারিদ্রতা নাশ হয়? বিনা দানে কিভাবে ধন, বিদ্যা, স্ত্রী লাভ হয়? আমার স্বামী আমাকে এখানে রেখে ভিক্ষার জন্য দূর দেশে যেতে চান। কিন্তু আমি তাঁকে যেতে নিষেধ করেছি। এখন আমাদের ভাগ্যবশে এখানে আপনার শুভাগমন হয়েছে। আপনার কৃপায় আমাদের দারিদ্রতা অবশ্যই নাশ হবে। দারিদ্রতা বিনষ্ট হয় এমন কোন ব্রত বা তপস্যার কথা আপনি কৃপা করে আমাদের বলুন।

 

এই কথা শুনে মুনিবর বললেন,- হে সাধ্বী! পুরুষোত্তম মাসের কৃষ্ণপক্ষে 'পরমা' নামে সর্বশ্রেষ্ঠা এক একাদশী আছে। এই তিথি ভগবানের অতিব প্রিয়তমা। এই ব্রত পালনে মানুষ অন্ন, ধনসম্পদ আদি সবই লাভ করে থাকে। এই সুন্দর ব্রত ধনপতি কুবের প্রথম করেছিলেন। রাজা হরিশচন্দ্রও এই ব্রত পালনে স্ত্রী-পুত্র রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। হে বিশালাক্ষী! এই জন্য তোমারাও এই ব্রত পালন কর।

 

হে পাণ্ডব! কৌণ্ডিন্য মুনির উপদেশে পতি-পত্নী উভয়ে একসঙ্গে বিধিমতো পুরুষোত্তম মাসের পরমা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রত সমাপনের পর রাজভবন থেকে এক রাজকুমার তাঁদের কাছে এলেন। ব্রহ্মার প্রেরণায় তিনি বহু ধনসম্পদ, নতুন গৃহ গাভী এই দম্পতিকে দান করলেন। এই দানের ফলে মৃত্যুর পর সেই রাজা বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এইভাবে পরমা ব্রতের প্রভাবে ব্রাহ্মণ-দম্পতির সকল দুঃখের অবসান হল।

 

যে মানুষ এই একাদশী ব্রত পালন না করেন তিনি চূরাশি লক্ষ যোনিতে ভ্রমণ করেও কখনও সুখী হয় না। বহু পূণ্য কর্মের ফলে দুর্লভ মানব-জন্ম লাভ হয়। তাই মানব-জীবনে এই একাদশী ব্রত পালন করা অবশ্য কর্তব্য। এই মাহাত্ম্য শুনে মহারাজ যুধিষ্ঠির তাঁর আত্মীয়বর্গের সঙ্গে এই ব্রত পালন করেছিলেন।

 

★★★সবাইকে অনুরোধ রইল অবশ্যই মনে রাখবেন যে, একাদশী ব্রত বা কোন উপবাস মানেই কিন্তু শুধু না খেয়ে থাকা নয়,বরং শুদ্ধ/পবিত্র দেহ,মন নিয়ে ব্রত/উপবাস রেখে নিরন্তর "ভগবানের নাম জপ" হরিকথা শ্রবণ, কীর্ত্তন,গীতাপাঠ করে "ভগবান কে প্রসন্ন/খুশি করাই  ব্রত/উপবাসের মূল উদ্দেশ্য"★★★ 

‘’একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।

প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব।।‘’

এই মন্ত্র পাঠ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পারণ করতে হয়। গীতার মাহাত্ম্যে উল্লেখ আছে

 

‘’যোহধীতে বিষ্ণুপর্বাহে গীতাং শ্রীহরিবাসরে।

স্বপন জাগ্রৎ চলন তিষ্ঠন শত্রুভির্ন হীয়তে।।‘’

অর্থাৎ,- শ্রীবিষ্ণুর উৎসবের দিনে, একাদশী জন্মাষ্টমীতে যিনি গীতা পাঠ করেন , তিনি চলুন বা দাড়িয়ে থাকুন, ঘুমিয়ে বা জেগে থাকুন,(যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন) শত্রু কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারেনা।

 

জয় জয় হরিনাম,  চিদানন্দামৃতধাম,

পরতত্ত্ব অক্ষর-আকার। 

নিজ-জনে কৃপা করি,  নাম-রূপে অবতরি,

জীবে দয়া করিলে অপার ।। 

 

জয় হরি - কৃষ্ণ - রাম    জগজন - সুবিশ্রাম,

সর্বজন - মানস - রঞ্জন। 

মুনিবৃন্দ নিরন্তর,  যে নামের সমাদর,

করি গায় ভরিয়া বদন ।। 

 

ওহে কৃষ্ণনামাক্ষর,  তুমি সর্বশক্তিধর,

জীবের কল্যাণ - বিতরণে। 

তোমা বিনা ভবসিন্ধু,  উদ্ধারিতে নাহি বন্ধু,

আসিয়াছ জীব-উদ্ধারণে ।। 

 

আছে তাপ জীবে যত,  তুমি সব কর হত,

হেলায় তোমারে একবার। 

ডাকে যদি কোনো জন,  য়ে দীন অকিঞ্চন,

নাহি দেখি অন্য প্রতিকার ।। 

 

তব স্বল্প-স্ফূর্তি পায়,  উগ্রতাপ দূরে যায়,

লিঙ্গ-ভঙ্গ হয় অনায়াসে। 

ভকতিবিনোদ কয়,  জয় হরিনাম জয়,

'ড়ে থাকি তুয়া পদ-আশে ।।

জয় শ্রীকৃষ্ণের জয়জয় শ্রীএকাদশী মহাব্রতের জয় 


 

������ ️ ���� ️ ���� �� পরমা একাদশী �� ������ ️ ���� ️ ���� শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আ...