Tuesday, June 30, 2020


নিত্যলীলা প্রবিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ পরিব্রাজকাচার্য্য ত্রিদন্ডী স্বামী ১০৮ শ্রী - শ্রীল ভক্তিকমল মধুসূদন গোস্বামী মহারাজ
(তিরোভাব)
দীর্ঘাং সৌম্যব্পূর্ণ অরুন  বহির্বাসস্ত্রীদন্ডান্বিতাঃ
দিব্যং শ্রীগুরু গৌর কীর্ত্তন রসানন্দেন মত্তং. সদা II
শ্রী গৌড়ীয় যতীন্দ্র ভক্তিকমলং     স্নিগ্দহং     সেবাবিগ্রহং I
বন্দে শ্রীমধুসূদনং গুরুবরং বেদান্ত বিদ্যাস্বধিম II
বিশ্বব্যাপী শ্রী ব্রহ্মমাধ্যব - গৌড়ীয়মঠ সমূহের প্রতিষ্ঠাতা   নিত্যলীলা প্রবিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুল- চূড়ামণি পরিব্রাজকাচার্য্য - বর্য্য ত্রিদন্ডী স্বামী ১০৮ শ্রী - শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতীগোস্বামী ঠাকুরের প্রিয়তম পার্ষদ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমিশনের প্রতিষ্ঠাতা নিত্যলীলা প্রবিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ পরিব্রাজকাচার্য্য ত্রিদন্ডী স্বামী ১০৮ শ্রী - শ্রীল ভক্তিকমল মধুসূদন গোস্বামী মহারাজ ১৩০৮ বঙ্গাব্দের ৪ঠা পৌষ,১৯০১ খ্রী: ১৯ শে ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার শ্রীগৌরনবমী তিথিতে প্রাতঃ -১৫ মিঃ,পূর্ববঙ্গের  ফরিদপুর  জেলার অন্তর্গত বাজিতপুর গ্রামে ব্রাহ্মণকুলে আবির্ভূত হন I পিতৃদেব শ্রীযুক্ত পার্বতীনাথ সান্ন্যাল মাতৃদেবী ভক্তিমতি স্বর্ণময়ী দেবী I পিতা নবাবী আমলে বাদশা হইতে মজুমদার পদবী প্রাপ্ত হন I

মহারাজ জন্মসূত্রে ঝগ্বেদীয় শ্রেষ্ঠ বারেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ ছিলেন I ২২টি ব্রাহ্মণ পরিবার একত্রিত ভাবে বাজিতপুর গ্রামে বাস করিতেন I শ্রীল মহারাজের পিতৃ প্রদত্ত নাম ছিল শ্রীনৃপেন্দ্র সান্ন্যাল I তিনি বাল্যকাল হইতে খুব গম্ভীর প্রকৃতির,বিষয়ের প্রতি বৈরাগ্য,অকৃত্রিম ভগবদ্ভক্তি প্রভৃতি অসাধারণ গুণাবলী তাঁহার মধ্যে প্রকাশিত ছিল I তাঁহার কনক - কান্তি - উজ্জ্বল বর্ণ সৌম্য মূর্ত্তি সবার চিত্তকে আকর্ষণ করিত I বাল্যকালে স্থানীয় বাজিতপুর গ্রাম্য স্কুলে পড়াশুনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯২১ সালে অমৃত বাজার পত্রিকার সহ সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন I

শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রাচরিত ধৰ্ম,- ''জীবের একমাত্র সাধ্যবস্তু শ্রীকৃষ্ণপ্রেমে'' - যাহা অজ্ঞ - মায়ামূঢ় ব্যক্তিদের কপটতা জালে আবদ্ধ হইয়া কাম - কলুষিত আচরণে শিক্ষিত সমাজের নিকট নিন্দনীয় ও হাস্যপদ হইয়া উঠিয়াছিল I বৈষ্ণবধর্মের নাম শুনিলে সভ্য ব্যক্তিগণ নাসিকা কুঞ্জিত করিত I কারণ শুদ্ধবৈষ্ণব ধৰ্ম বোষ্টুম - বোষ্টুমীর ধর্মে পরিণত হইয়াছিল  I ঠিক সেই সময় ভগবানের ইচ্ছায় তাঁহার নিত্যসিদ্ধ পার্ষদ ওঁ  বিষ্ণুপাদ ১০৮ শ্রী - শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতীগোস্বামী ঠাকুর কলিকাতায় বাগবাজারস্থিত শ্রী গৌড়ীয়মঠ প্রকাশ করত: সারা বিশ্বে তাঁহার নিজ - জনদের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভুর বিমল প্রেমভক্তিধর্মের বাণী এবং তদ্পার্ষদবৃন্দ গোস্বামীগণের বিশুদ্ধ বৈষ্ণবধর্মের শ্রীকৃষ্ণভজন আদর্শ,শুদ্ধ বৈরাগ্য আচরণ,কঠোর ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা বিপুল ভাবে প্রচারের আয়োজন করিয়াছিলেন I

১৯২৫ খ্রী: অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক বিভাগে নিযুক্ত অবস্থায় একদিন কয়েকজন সমশীল ব্যক্তির সহিত কলিকাতায় বাগবাজার গৌড়ীয়মঠে প্রদর্শনী দর্শন করিবার জন্য উপস্তিত হন I শ্রীমঠের নাট্যমন্দির তথা 'শ্রবণ সদনে' নিত্য বৈকুণ্ঠপুরুষ শ্রীল প্রভুপাদের শ্রীমুখ বিগলিত হরিকথামৃত শ্রবনের ফলে নিত্য আরাধ্য গুরুদেবের পরিচয় পাইতে অসুবিধা হয় নাই I শ্রীলপ্রভুপাদের জ্যোতির্ময় দিব্যরূপ দর্শন ও তাঁহার অমৃতময়ী বাণী শ্রবনের প্রভাবে শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্র বাবুর (শ্রীল ভক্তিকমল মধুসূদন গোস্বামী মহারাজ) দিব্যভাবের প্রকাশ পাইল I শ্রীল প্রভুপাদের হরিকথামৃত খুবই আদরের সহিত পান করিলেন I

১৯২৯ সালে তিনি শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের শ্রীচরণ কমলে চিরদিনের মত আশ্রয় গ্রহণ করিলেন I শ্রীল প্রভুপাদ তাঁহার হরিদাস্য সূচক দিব্যনাম দিলেন 'শ্রীপাদ নরোত্তমানন্দ দাস ব্রহ্মচারী' I ব্রহ্মচারী জীর শ্রীহরি - গুরু - বৈষ্ণব সেবার ও বিশেষতঃ শ্রীহরিকথা শ্রবণ - কীর্ত্তনের সবিশেষ অনুরাগ দেখিয়া উনাকে ত্রিদন্ডী সন্ন্যাসীগণের সহিত ভারতের বিভিন্ন স্থানে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখনিঃসৃত শুদ্ধভক্তিসিদ্ধান্ত বাণী প্রচার রূপ সেবায় নিযুক্ত করেন  I ১৯৩২ সালে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর প্রভুপাদের হার্দিক ইচ্ছায় বস্বে শ্রীগৌড়ীয়মঠে অবস্থান করে ইংরাজী ভাষায় শাস্ত্র ব্যাখ্যা ও প্রচার কার্য্যাদি শুরু করেন I বস্বে শ্রীমঠে অবস্থানকালে শ্রীল প্রভুপাদ উনার জন্য শ্রী নরোত্তমানন্দ দাস ব্রহ্মচারী নাম সম্মিলিত সম্পূর্ণ দ্বাদশ - স্কন্দ শ্রীমদ্ভাগবত প্রেরণ করিয়া শ্রীভাগবত ধর্ম্ম প্রচারে নির্দেশ ও উদ্বুদ্ধ করেন I সেই সময় হইতে শ্রীমদ্ভাগবত কথা প্রচার উনার প্রধান সেবা হইয়াছিল I তাঁহার সুসিদ্ধান্ত পূর্ণ সারগর্ভ হরিকথা পরিবেশনের দক্ষতা সকল গুরুভ্রাতাদের চিত্ত আকৃষ্ট করিয়াছিল I

ব্রহ্মচারী জীর বিভিন্ন স্থানে বহু বিদ্বনমন্ডলীর সভায় পাঠ - কীর্ত্তন - বক্ত্রতায়,মঠ- মন্দির প্রতিষ্টা ও নানাবিধ সেবাকার্য্যে পরম উৎসাহ,দক্ষতা ও প্রসন্ন চিত্তে সু সম্পাদন করিবার নিরলস প্রয়াসে সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে শ্রীনবদ্বীপ ধাম প্রচারিনী সভার পক্ষ হইতে 'ভক্তি কমল' এই ভক্তি সূচক উপাধি ভূষণে ভূষিত করতঃ প্রচুর স্নেহাশীর্বাদ দান করেন I

 ১৯৫২ সালে বাং ১৩৫৮ সনে,জেষ্ট গুরুভ্রাতা শ্রীল ভক্তি রক্ষক শ্রীধরদেব গোস্বামী মহারাজের নিকট হইতে ত্রিদণ্ড সন্ন্যাস মন্ত্র গ্রহণ করিয়া তিনি  'ত্রিদন্ডী ভিক্ষু শ্রীমদ্ভক্তিকমল মধুসূদন গোস্বামী মহারাজ' দিব্য নামে সুপরিচিত হন. শ্রীল ভক্তি রক্ষক শ্রীধরদেব গোস্বামী মহারাজের মঠ হইতে প্রকাশিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার তাৎপর্যা পূর্ণ অনুবাদ শ্রীল মহারাজের খুবই প্রিয় ছিল I

পরবর্ত্তী  কালে শ্রীল মহারাজ বর্ধমানের জমিদার পরিবারের প্রচেষ্টায় চাঁন্দাইপুরে মঠ করিবার সকল আয়োজন হওয়া সত্ত্বেও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তথা হইতে সমস্ত ব্যবস্থাপনা লঙ্কর দীঘিতে স্থানান্তরিত করা হয়,তাহাও ব্যর্থ হইলে পরবর্তী কালে ''বর্ধমানের মিঠাপুকুর মোহল্লায় শ্রী মন্দির,নাট্য মন্দির,সেবকখণ্ড নির্মাণ করিয়া ১৯৬২ সালে শ্রী নৃসিংহ চাতুর্দ্দশী দিবসে শ্রী শ্রী গুরু - গৌরাঙ্গ - রাধাগোবিন্দ জীউ প্রতিষ্ঠিত করিয়া শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমঠ স্থাপিত হয় I

শ্রীভগবান তদ্ভক্তের জন্ম,কর্ম সবই অপ্রাকৃত অতিমর্ত্ত্য হয় I শ্রীল মহারাজের সম্বন্ধেও তাই ছিল I বস্তুতঃ ''মূঢ়রেবেদ্যং প্রণতাভিগমং'' অর্থাৎ মূঢ় গনের অজ্ঞাত হইলেও প্রণতজনের তাহা পরিজ্ঞাত I তাঁহার চরণাবিন্দে নিষ্কপটে শরণাগত স্নিগ্ধ ভক্তের নিকট তিনি আত্ম প্রকাশ করতঃ তাঁহার দুরধিগম্য লীলারহস্যে প্রবেশিকার প্রদান করেন I

ইহার রচিত গ্রন্থাবলী মধ্যে 'প্রবন্ধাবলী' 'যুক্তবৈরাগ্য' 'ভক্তিবিঘাতা' 'সাধুমার্গানুগমন ইত্যাদি গ্রন্থসমূহ ভক্তগণের নিকট বিশেষভাবে সমাদৃত প্রসিদ্ধ I শ্রীল মহারাজ সর্বদা হরিভজন করিয়া সকলকে হরিভজনের উপদেশ দিয়া শেষ বয়সে সামান্য অসুস্থ লীলার অভিনয় করিয়া ১৯৯১ সালের  ২০শে জুলাই, গৌরদশমী তিথিতে অপরাহ্ন -৩৫ মিঃ,সমস্ত আশ্রিত ভক্তগণকে বিরহ সাগরে নিমজ্জিত করিয়া তাঁহার আরাধ্যদেবের শ্রীচরণ হৃদয়ে স্মরণ করিতে সাক্ষাৎ ব্রজধাম শ্রীমায়াপুরে শ্রীরাধাবনে শ্রীরাধাভাব - কান্তি সুবলিত শ্রীরাধামাধব মিলিত তনু শ্রীগৌরসুন্দরের সপার্ষদ মাধ্যাহ্নিক সংকীর্ত্তন লীলা বিহার স্থলে শ্রীরাধাগোবিন্দের নিত্য লীলার প্রবেশ করেন I


Monday, June 29, 2020


💐💐 বাহুড়া যাত্রা💐💐
🌷 🍁🌻💞🏵💐🌺💐🏵💞🌻 🍁🌷
বিশেষ পোষ্ট
শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ
সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I শ্রীজগন্নাথদেবের বিশ্ব প্রসিদ্ধ বাহুড়া যাত্রার তিথির অগ্রীম কৃষ্ণপ্রীতি শুভেচ্ছা অভিনন্দন।

হরে কৃষ্ণ, আগামী ০১/০৭/২০২০ ইং রোজ - বুধবার শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের বিশ্বপ্রশিদ্ধ বাহুড়া যাত্রা।

আষাঢ় শুক্লপক্ষ দশমী বা বাহুড়া দশমী (উল্টোরথ) এর দিন শ্রীজগন্নাথ মহাপ্রভু রথ চড়ে গুণ্ডিচা মন্দির থেকেবড় দেউল ফিরে আসেন। একে বাহুড়া যাত্রা বা দক্ষিণাভিমুখী যাত্রা বলা হয়।

স্কন্দপুরাণের উৎকল খণ্ডে উল্লেখ আছে,-
''নবমী বাসয়েদ্দেবান্ তেষু প্রাতঃ সমৃদ্ধিমত্।
দক্ষিণাভিমুখী যাত্রা বিষ্ণোরেষা সুদুর্লভা।।
অর্থাৎ,- নবমী দিবসে দেবতাগণকে রথে অধিষ্ঠিত করাবে। উক্ত দিবসে প্রাতঃকাল অত্যন্ত সমৃদ্ধিবান। সেদিন শ্রীবিষ্ণুর পালিত দক্ষিণাভিমুখী যাত্রা অত্যন্ত দুর্লভ।

বাহুড়া যাত্রার পূর্বে ''শরধাবালী’’ তে রক্ষিত রথ তিনটিকে দক্ষিণাভিমুখী করে গুণ্ডিচা মন্দিরের ''নাকচণা'' দ্বারের সম্মুখে রাখা হয়। শ্রী জগন্নাথের রথ নন্দীঘোষ ''শ্রীনঅর'' রাজবাড়িতে পৌঁছলে পরে সেখানে পারম্পরিক রীতি অনুসারে শ্রীলক্ষ্মী - নারায়ণ মিলন করা হয়।

সম্পূর্ণ যাত্রা অনুষ্ঠানটির তিনটি অঙ্গ,- যথা প্রথমটি রথযাত্রা, দ্বিতীয়টি গুণ্ডিচা মন্দিরে বাস এবং তৃতীয়টি হল বাহুড়া যাত্রা। রথযাত্রার সময়ে বিগ্রহগুলির উত্তরাভিমুখী যাত্রার সময়ে তাঁদের দর্শন করলে যে পূণ্যলাভ হয়, বাহুড়া যাত্রার সময়ে দক্ষিণাভিমুখী বিগ্রহ দর্শনেও একইরূপ ফল লাভ হয়। এমনকি এই দুর্লভ দর্শনে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পূণ্যফল লাভ করে অন্তিমকালে বৈকুণ্ঠপ্রাপ্তি ঘটে বলেই ভক্তগণ বিশ্বাস করে থাকেন।

বাহুড়া যাত্রা আরম্ভ হবার আগে রথ তিনটি মৌসীমা মন্দিরের সম্মুখে কিছুক্ষণ দাঁড়ায়। এখানে দেবদেবী - বিগ্রহ গুলিকে চাল, ডাল, নারকেল গুড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরী এক বিশেষ মিষ্টি  'পোড়াপিঠা' নিবেদন করা হয়। এরপর শুরু হয় ফেরার পালা। শ্রীবলভদ্র দেবী সুভদ্রার রথ দুইটি প্রথমে যাত্রা শুরু করে শ্রীমন্দিরের সিংহ-দ্বারে অপেক্ষা করে। প্রভু জগন্নাথের রথ রাজপ্রাসাদের সম্মুখে এসে দাঁড়ায়। এই সময়ে রাজবাড়ির ''চাহনি - মণ্ডপ'' থেকে শ্রীলক্ষ্মীদেবী উঁকি দিয়ে জগন্নাথের আগমন দর্শন করেন। হৃষ্টচিত্তে লক্ষ্মীদেবী পালকীতে চড়ে জগন্নাথের রথের সম্মুখে এলে প্রভু একটি বহুমূল্য কণ্ঠহার লক্ষ্মীদেবীকে উপহার দেন। শ্রীজগন্নাথকে যথোপচারে বরণ করার পর লক্ষ্মীদেবী আবার পালকীতে চড়ে ফিরে যান এবং প্রভুর শ্রীমন্দিরে আগমনের জন্য প্রতীক্ষা করেন। বাহুড়া যাত্রার দিন রথ তিনটি শ্রীমন্দিরের সামনেই দণ্ডায়মান থাকে।

সুনাবেশঃ
সেদিন সন্ধ্যায় তিনটি দেববিগ্রহকে স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিত করা হয়, একে সুনাবেশ বলা হয়। রত্নভাণ্ডার ঘর থেকে অলঙ্কার গুলি বের করে এনে ভারপ্রাপ্ত দৈতাপতিগণের হাতে অর্পণ করা হয়। সেদিন বিকাল পাঁচটা থেকে রাত এগারটা পর্য্যন্ত এই স্বর্ণালঙ্কারে সাজসজ্জা ভক্তগণ দর্শন করেন।

শ্রীজগন্নাথ শ্রীবলদেবকে সোনার হাত পরানো হয়। প্রভুজগন্নাথ দক্ষিণ হস্তে স্বর্ণচক্র এবং বামহস্তে রৌপ্যশঙ্খ ধারণ করেন। বলভদ্র ধারণ করেন সোনার লাঙ্গল স্বর্ণদণ্ড। তিন বিগ্রহকেই স্বর্ণালঙ্কারে সাজানো হয়। সোনাবেশে ভূষিত করতে যে সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার গুলি ব্যবহার করা হয় , সেগুলি হল,- হস্ত, পদ, মুকুট, ময়ূর চন্দ্রিকা, চুলাপাতি, কর্ণ কুণ্ডল, রাহুরেখা, কণ্ঠহার, পদ্মহার, সেবতী হার, অগস্তি মালা, কদম্বহার, কৌস্তুভমালা, ময়ূরমালা, চম্পামালা, চক্র, গদা,পদ্ম, শঙ্খ ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে উপরে বর্ণিত সমস্ত অলঙ্কারই সোনার তৈরী

অধর - পানঃ
একাদশীর দিন বিগ্রহদেরকে ''অধর - পান'' নিবেদন করা হয়। দুধ, শর্করা, মাখন, কলা, কর্পূর, বাদাম, গোলমরিচ, বিবিধ ভেষজ তুলসী সহযোগে তৈরী বিশেষ সুগন্ধী পানীয়। এই অধর - পান পানীয়পূর্ণ বিশাল আকৃতির পোড়ামাটির পিপেগুলি রথে উপবিষ্ট বিগ্রহের সামনে রাখা হয়। রাঘবদাস মঠ মন্দির কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই পানীয় পূর্ণ পাত্রগুলি নিবেদিত হয়ে থাকে পুরোহিতেরা ষোড়শ উপচারে পূজা করেন এবং পূজার অন্তে এই পাত্রগুলি ভেঙ্গে ফেলা হলে সমস্ত পানীয় রথের উপর ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বাস করা হয় যে ছড়িয়ে পড়া এই পানীয় পার্শ্বদেবতারা প্রসাদরূপে গ্রহণ করেন।

নীলাদ্রি বিজয়ঃ
দ্বাদশী তিথিতে অপরাহ্নে দেব বিগ্রহগণ শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন। তাঁদেরকে এক এক করে রত্ন-সিংহাসনে নিয়ে আসা হয়। এই সময় শ্রীলক্ষ্মীদেবীর সাথে প্রভু জগন্নাথের একপ্রস্থ ঝগড়া বিবাদ হয়। তাঁকে একলা রেখে মাসীর বাড়ি চলে যাবার জন্য লক্ষ্মীদেবী রেগে গিয়ে কেবল বলভদ্র সুভদ্রাকে প্রবেশ করতে দিয়ে মন্দিরের দ্বার রুদ্ধ করে দেন। এরপর মানভঞ্জনের লীলা। জগন্নাথদেব ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে রসগোল্লা দিয়ে দেবীর মান ভঞ্জন করেন। তখন জগন্নাথ দেব রত্ন সিংহাসনে ফিরে আসেন, একে বলা হয় নীলাদ্রি বিজয়।

💐🏵জয় বাহুড়া যাত্রার জয়💐💐জয় শ্রীলক্ষ্মীদেবীর জয়🏵💐  

💐🏵️💞🌺🌷🌺💞🏵️💐 🌷 ব্যঞ্জুলী মহাদ্বাদশী 🌷 💐🏵️💞🌺🌷🌺💞🏵️💐 শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তব...