🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚
🌳🌷কৃষ্ণপ্রেয়সী তুলসী🌷🌳
🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚
🍇বিশেষ পোষ্ট🍇
শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ
সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I
‘’গুরু - বৈষ্ণব - ভগবান তিনিহেঁ স্মরণ ।
তিনেহেঁ স্মরণ হইতে হয় সর্ববিঘ্ন বিনাশন ।।
অনায়াসে হয় নিজ বাঞ্ছিত পূরণ ।।‘’
বৃন্দায়ৈ তুলসীদেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ ৷
কৃষ্ণ ভক্তিপ্রদে দেবী সত্যবত্যৈঃ নমো নমঃ I I
তুলসী দেবীর কৃপা ব্যতীত কৃষ্ণ প্রেম সম্ভব নয়। তাই তুলসী দেবীকে তুষ্ট করার জন্য নিয়মিত তুলসী সেবা আবশ্যক। কৃষ্ণ সেবায় একমাত্র তুলসী পত্র ব্যতীত অন্য কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না। তুলসী দেবী কৃষ্ণভক্তি লাভের প্রতীক। এছাড়াও তুলসী পত্র একটি মহাৌষধি।
তুলসীর উৎপত্তি…
সর্বৌষধি রসেনৈব পূর্বমৃত মন্থনে।
সর্বোসত্ত্বোপকারায় বিষ্ণুনা তুলসী কৃতা।। … (স্কন্ধ পুরাণ)
পরাকালে দেবাসুর হইয়া মিলিত।
সমুদ্র মন্থনে করে উৎপন্ন অমৃত।।
জীবের মঙ্গল হেতু বিষ্ণু হিতময়।
সর্বগুণা তুলসীরে উদ্ধত করয়।।
🙏 শ্রীগোবিন্দের চরণ ব্যতীত তুলসীপত্র অর্পণ করতে নেই 🙏
♥গুরুদেব ভগবানের মতো শ্রদ্ধেয় হলেও তিনি কখনই ভগবান নন ৷ তিনি ভগবানের প্রিয় সেবকমাত্র ৷ তিনি ভগবানের ভক্ত ৷ আর তুলসী হচ্ছেন গোবিন্দবল্লভা ৷ শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী ৷ একমাত্র বিষ্ণুতত্ত্ব ব্যতীত কারও চরণে তুলসীপত্র অর্পণ করা কখনই উচিত নয় ৷ কারণ তা মহা অপরাধ ৷ শ্রীঅনন্ত সংহিতা শাস্ত্রে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে—
তুলস্যা বিষয়ং তত্ত্বং বিষ্ণুমেব সমর্চয়েৎ ৷
সা দেবী কৃষ্ণশক্তিহি শ্রীকৃষ্ণবল্লভা মতা ৷৷
অতস্তাং বৈষ্ণবীং দেবীং নান্যপদে সমর্পয়েৎ ৷
অর্পণে তত্ত্বহানিং স্যাৎ সেবাপরাধ এব চ ৷৷
অতত্ত্বজ্ঞস্ত পাষণ্ডো গুরুব্রুবস্য পাদয়োঃ ৷
অর্পয়ন্ তুলসীং দেবীমর্জয়েন্নরকং পদম্ ৷৷
‘’তুলসীপত্র দিয়ে শ্রীবিষ্ণু তত্ত্বের অর্চনা করা কর্তব্য ৷ তুলসীদেবী কৃষ্ণশক্তি, শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তমা ৷ তিনি পরম বৈষ্ণবী ৷ অন্য কারও পদে তুলসীপত্রাদী অর্পণ করা উচিত নয় ৷ যদি কেউ অর্পণ করে তবে সে তত্ত্বজ্ঞানহীন হয় এবং তার সেবা অপরাধ হয় ৷ আর যে তত্ত্বজ্ঞানহীন পাষণ্ড গুরুদেবের চরণে তুলসী অর্পণ করে তার নরকগতিই লাভ হয় ৷’’ যে ব্যক্তি চরণে তুলসীপত্র গ্রহণ করে সে কখনই গুরু নয় ৷ সে পরমগুরুরত্ত বিরোধী ৷ ভগবান শ্রীহরি ছাড়া কোনও দেবদেবীকে তুলসীপত্র দিয়ে কখনই অর্চনা করা উচিত নয় ৷ বায়ু পুরাণে মহর্ষি ব্যাসদেব সেই কথা উল্লেখ করেছেন—
তুলসীদল মাত্রায় যোহন্যং দেবং প্রপূজয়েৎ ৷
ব্রহ্মহা স হি গোঘ্নশ্চ স এব গুরুতল্পগঃ I I
অর্থাৎ,- ‘’যে ব্যক্তি তুলসীপত্র দ্বারা অন্য দেবদেবীর পূজা করে তার নিশ্চয়ই ব্রহ্মহত্যা, গো - হত্যা ও গুরুপত্নী গমনের পাপ অর্জিত হয়ে থাকে ৷”
শ্রীমতী বৃন্দাদেবী শ্রীকৃষ্ণভক্তি জননী। কৃষ্ণপ্রেম প্রদায়িনী, সর্বদুঃখহারিণী এবং শ্রীকৃষ্ণের সাথে মায়াবদ্ধ জীবের মিলনকারিণী। গোলোক বাসিনী শ্রীমতী বৃন্দাদেবী শ্রীকৃষ্ণের প্রাণ প্রেয়সী। বৃহৎ ধর্ম পুরাণে বলা হয়েছে ,- শ্রীমতী বৃন্দাদেবী দ্বিভূজা, শ্যামাঙ্গী, চারুবদনী, শ্বেতবসনা, শঙ্খ -পদ্ম হস্ত যুক্তা এবং নানা প্রকার অলংকারে বিভূষিতা। তিনি ভক্তের সর্বার্থসিদ্ধি প্রদান করে থাকেন।
বৃক্ষরূপে অবস্থিত বৃন্দাদেবী অর্থাৎ তুলসীদেবী বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকেন। যেমন হরিৎবর্ণ, কৃষ্ণবর্ণ, সবুজবর্ণ এবং কখনো মিশ্রবর্ণ। তুলসীদেবীর প্রতিটি পত্রে দ্বাদশ্বাক্ষর মন্ত্র বিরাজমান। আবার প্রতি অক্ষরে ভগবান বিষ্ণুর সহস্রনাম বিরাজমান। তুলসীপত্র ভগবানের অত্যন্ত প্রিয়! তাই শাস্ত্রে বলা হয়েছে ,-
"ছাপান্ন ভোগ ছত্রিশ ব্যঞ্জন, বিনা তুলসী প্রভু একো নাহি মানি। "
এইভাবে দেখা যায় শ্রীমতী বৃন্দাদেবী ভগবানের প্রাণপ্রিয় অন্তরঙ্গা শক্তি।
কিছু প্রয়োজনীয় তুলসীমাহাত্ম্য
১। শ্রীভগবানের চরণে তুলসী অর্পণের বিধিঃ-
👉বিধি পূর্বক তুলসীপত্র চয়ন পূর্বক ধৌত করা কর্তব্য। তারপর জলশূন্য করে চন্দন মিশ্রিত করুন। অনন্তর অনামিকা ও বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠে বৃন্তটি ধারণ পূর্বক পত্র পৃষ্ঠ নিচে রেখে অর্থাৎ যেভাবে উৎপন্ন হয়েছে ঠিক সেভাবে শ্রীভগবানের চরণে অর্পণ করা কর্তব্য।
২। তুলসী কাষ্ঠ মাহাত্ম্যঃ-
👉তুলসী কাষ্ঠাগ্নিতে অন্ন পাক করতঃ শ্রীহরিকে নিবেদন করলে সেই অন্ন সুমেরু সদৃশ্য এবং অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। যে সকল মৃতব্যক্তির দেহ তুলসী কাষ্ঠে দাহ করা হয় তাদের কোন কালেও হরিধাম হতে সংসার জগতে ফিরে আসতে হয় না। মৃতদেহ দাহ করার সময় অন্যান্য কাষ্ঠের সহিত যদি একখণ্ডও তুলসীকাষ্ঠ দেওয়া
হয় তবেও কোটি পাপ হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
৩। তুলসীপত্র ধারণ মাহাত্ম্যঃ-
👉শিরোদেশে তুলসীপত্র ধারণ করলে বৈষ্ণবজন ত্রিভুবন পবিত্র করতে সমর্থ হন। যিনি তুলিসীপত্র হস্তে নিয়ে গমন করেন শ্রীহরি তদীয় রক্ষার্থে পশ্চাৎ পশ্চাৎ অনুগমন করেন। তুলসীপত্র ধারণে সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হওয়া যায়।
৪। তুলসী দল ভক্ষণ মাহাত্ম্যঃ-
👉শ্রীহরিকে তুলসীপত্র অর্পণ করে বৈষ্ণবেরা তুলসীপত্র গ্রহণ করেন। শত শত চন্দ্রায়ন না করে ত্রিসন্ধ্যা ভগবৎ অর্পিত তুলসীদল ভক্ষণে তদপেক্ষা অধিক দেহ শোধন হয়।
অবশ্যই পালনীয় কর্তব্যসমূহঃ-
১। তুলসী মালা শ্রীভগবানকে অর্পণ না করে ব্যবহার করবেন না।
২। তুলসীপত্র স্পর্শ করে কখনো মিথ্যা বলবেন না।
৩। তুলসী বৃক্ষের ছায়া লঙ্ঘন করবেন না।
৪। জুতো পায়ে তুলসী স্পর্শ করবেন না।
৫। পশ্চিম মূখী হয়ে তুলসী চয়ন করবেন না।
৬। তুলসী চয়নের আগে ক্ষমা প্রার্থনা মূলক মন্ত্র উচ্চারণ করে চয়ন করবেন।
৭। স্নান না করে তুলসী চয়ন করবেন না।
৮। শ্রীভগবানকে নিবেদন না করে তুলসী ভক্ষণ করবেন না।
৯। তুলসী কেবলমাত্র একটি বৃক্ষ-এরূপ মনে করে অবজ্ঞা করবেন না।
বিঃদ্রঃ উপরোক্ত নিয়ম লঙ্ঘন করলে মহা অপরাধী এবং নরক গামী হতে হবে I
শ্রীতুলসী - আরতি
নমো নমঃ তুলসী কৃষ্ণ - প্রেয়সী ৷
রাধাকৃষ্ণ - সেবা পাব এই অভিলাষী ।।
যে তোমার শরণ লয়, তার বাঞ্ছা পূর্ণ হয়,
কৃপা করি' কর তারে বৃন্দাবন বাসী ।।
এই নিবেদন ধর, সখীর অনুগত কর,
রাধাকৃষ্ণ - সেবা দিয়া কর নিজদাসী ।।
মোর এই অভিলাষ, বিলাসকুঞ্জে দিও বাস,
নয়নে হেরিব সদা যুগলরূপরাশি ।।
দীন কৃষ্ণদাস কয়, মোর যেন এই হয়,
শ্রীরাধাগোবিন্দ - প্রেমে সদা যেন ভাসি ।।
তুলসী-প্রদক্ষিণ মন্ত্র
যানি কানি চ পাপানি ব্রহ্মহত্যাদিকানি চ ।
তানি তানি প্রনশ্যন্তি প্রদক্ষিণ পদে পদে ।।
অর্থাৎ,- যখন মানুষ শ্রীমতী তুলসীদেবীকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন প্রতি পদক্ষেপে তার কৃত সকল পাপকর্ম, এমন কি ব্রহ্মহত্যার পাপও বিনষ্ট হয়ে যায় । তারপরে বাঁ হাতে পষ্ণপাত্র ধারণ করে তা থেকে ডান হাত দিয়ে শ্রীমতি তুলসীদেবীকে জল সিঞ্চন করতে হয় ।।
তুলসী জলদান মন্ত্র:-
(ॐ) গোবিন্দবল্লভাং দেবীং ভক্তচৈতন্যকারিণীম্ ।
স্নাপয়ামি জগদ্ধাত্রীং কৃষ্ণভক্তি প্রদায়িনীম্ ।।
তুলসী চয়ন মন্ত্র:-
(ॐ) তুলস্যমৃতজন্মাসি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়া ।
কেশবার্থে চিনোমিত্বাং বরদা ভব শোভনে ।।



No comments:
Post a Comment