💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐
🌻🍁বরাহ দ্বাদশী🍁
💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐
শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ
সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I আজ বিশেষ শুভদা তিথি। আজ ভগবান শ্রীবরাহ দেবের শুভ আবির্ভাব তিথি।
বসতি দশন-শিখরে ধরণী তব লগ্না,
শশিনি কলঙ্ককলেব নিমগ্না।
কেশব! ধৃতশূকররূপ! জয় জগদীশ হরে! II
শ্রীবরাহ হলেন বিষ্ণুর অবতার। এই অবতারে ভগবান বিষ্ণু বন্য শূকরের রূপ ধারণ করেছিলেন। পুরাণ অনুযায়ী, তিনি হিরণ্যাক্ষ নামক রাক্ষসের হাত থেকে ভূদেবী পৃথিবীকে উদ্ধার করেন। হিরণ্যাক্ষ পৃথিবীকে মহাজাগতিক সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। বিষ্ণু বরাহ-এর বেশ ধারণ করে এক হাজার বছর ধরে হিরণ্যাক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাঁকে পরাজিত ও নিহত করেন। তারপর পৃথিবীকে মহাজাগতিক সমুদ্রের নীচে থেকে উদ্ধার করেন।
শিল্পকলায় দুভাবে বরাহের চিত্র আঁকা হয়ে থাকে। কখনও তাঁকে দেখানো হয় সম্পূর্ণ পশুর রূপে; আবার কখনও দেখানো হয় আধা-মানুষ, আধা-পশুর রূপে। দ্বিতীয় রূপটিতে তাঁর চারটি হাত; চার হাতে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম; এবং বরাহদন্তে ধরা থাকে পৃথিবী। বরাহ অবতার প্রলয়ের পর পৃথিবীর নবজন্ম ও নতুন কল্প প্রতিষ্ঠার প্রতীক। বরাহ পুরাণে বরাহ অবতারের পূর্ণাঙ্গ উপাখ্যান পাওয়া যায়।
সত্যযুগে দিতির পুত্র হিরণ্যকশিপুর ভ্রাতা হিরণ্যাক্ষ ব্রহ্মার বরে মানুষ ও দেবতার অবাধ্য হয়ে ওঠে। সে স্বর্গ অধিকার করে পৃথিবী মাতাকে মহাজাগতিক সাগরে লুকিয়ে রাখে। তখন ব্রহ্মা পৃথিবী উদ্ধারের জন্য শ্রীকৃষ্ণের স্তব করা শুরু করেন। রাজ রাজেশ্বর পরমেশ্বর ভগবান ব্রহ্মার প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে একটি ছোটো বরাহ বা শুকরের রূপ ধারণ করে ব্রহ্মার নাসিকা থেকে নির্গত হন। তখন ব্রহ্মা ভগবানকে চিনতে পেরে তাঁর বন্দনা করেন। ভগবান ব্রহ্মাকে আশীর্বাদ করে হিরণ্যাক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেন। শ্রীভগবান হিরণ্যাক্ষকে বধ করে পৃথিবীদেবীকে উদ্ধার করেন। আজকের দিনেই ভগবান বরাহ রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ভক্তদের রক্ষার জন্য গোবিন্দ বরাহ রূপ ধারণ করতে একটুও সঙ্কোচিত হননি এই জন্যই তিনি ভক্তবৎসল ভগবান।
ভগবানের সকল অবতারগণও নবদ্বীপে বিরাজ করেন । চারযুগে ভগবান চার মূর্ত্তিতে নবদ্বীপে আবির্ভূত হন । যথা,-
(১)সত্যযুগ : গোদ্রুমদ্বীপে শ্রীনৃসিংহদেব রুপে । তিনি কোলদ্বীপে বরাহদেব রুপে আবির্ভূত হন ।
(২)ত্রেতাযুগ : মোদদ্রুমদ্বীপে শ্রীরামচন্দ্ররুপে
।
(৩)দ্বাপরযুগ : কোলদ্বীপে সমুদ্রগড়ে শ্রীকৃষ্ণরুপে ।
(৪)কলিযুগ : অন্তর্দ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রুপে।
(১)
গোপীনাথ, মম নিবেদন শুন ।
বিষয়ী দুর্জ্জন, সদা কামরত, কিছু নাহি মোর গুণ ।।
গোপীনাথ, আমার ভরসা তুমি ।
তোমার চরণে, লইনু শরণ, তোমার কিঙ্কর আমি ।।
গোপীনাথ, কেমনে শোধিবে মোরে ।
না জানি ভকতি, কর্ম্মে জড়মতি, পড়েছি সংসার - ঘোরে ।।
গোপীনাথ, সকল তোমার মায়া ।
নাহি মম বল, জ্ঞান সুনির্ম্মল, স্বাধীন নহে এ কায়া ।।
গোপীনাথ, নিয়ত চরণে স্থান ।
মাগে এ পামর, কাঁদিয়া কাঁদিয়া, করহে করুণা দান ।।
গোপীনাথ, তুমি ত' সকলি পার ।
দুর্জ্জনে তারিতে, তোমার শকতি, কে আছে পাপীর আর ।।
গোপীনাথ, তুমি কৃপা - পারাবার ।
জীবের কারণে, আসিয়া প্রপঞ্চে, লীলা কৈলে সুবিস্তার ।।
গোপীনাথ, আমি কি দোষে দোষী ।
অসুর - সকল, পাইল - চরণ, বিনোদ থাকিল বসি' ।।
(২)
গোপীনাথ, ঘুচাও সংসার - জ্বালা ।
অবিদ্যা যাতনা, আর নাহি সহে, জনম - মরণ মালা ।।
গোপীনাথ, আমি ত' কামের দাস ।
বিষয়-বাসনা, জাগিছে হৃদয়ে, ফাঁদিছে করম ফাঁস ।।
গোপীনাথ, কবে বা জাগিব আমি ।
কামরূপ অরি, দূরে তেয়াগিব, হৃদয়ে স্ফুরিবে তুমি ।।
গোপীনাথ, আমি ত' তোমার জন ।
তোমারে ছাড়িয়া, সংসার ভজিনু, ভুলিয়া আপন ধন ।।
গোপীনাথ, তুমি ত' সকলি জান ।
আপনার জনে, দণ্ডিয়া এখন, শ্রীচরণে দেহ স্থান ।।
গোপীনাথ, এই কি বিচার তব ।
বিমুখ দেখিয়া, ছাড় নিজ-জনে, না কর করুণা - লব ।।
গোপীনাথ, আমি ত' মূরখ অতি ।
কিসে ভাল হয়, কভু না বুঝিনু, তাই হেন মম গতি ।।
গোপীনাথ, তুমি ত' পণ্ডিতবর ।
মুঢ়ের মঙ্গল, তুমি অন্বেষিবে, এ দাসে না ভাব' পর ।।
(৩)
গোপীনাথ, আমার উপায় নাই ।
তুমি কৃপা করি', আমারে লইলে, সংসারে উদ্ধার পাই ।।
গোপীনাথ, পড়েছি মায়ার ফেরে ।
ধন - দারা সুত, ঘিরেছে আমারে, কামেতে রেখেছে জেরে ।।
গোপীনাথ, মন যে পাগল মোর ।
না মানে শাসন, সদা অচেতন, বিষয়ে র'য়েছে ঘোর ।।
গোপীনাথ, হার যে মেনেছি আমি ।
অনেক যতন, হইল বিফল, এখন ভরসা তুমি ।।
গোপীনাথ, কেমনে হইবে গতি ।
প্রবল ইন্দ্রিয় - , বশীভূত মন, না ছাড়ে বিষয়-রতি ।।
গোপীনাথ, হৃদয়ে বসিয়া মোর ।
মনকে শমিয়া, লহ নিজ - পানে, ঘুচিবে বিপদ ঘোর ।।
গোপীনাথ, অনাথ দেখিয়া মোরে ।
তুমি হৃষিকেশ, হৃষীক দমিয়া, তার' হে সংসৃতি - ঘোরে ।।
গোপীনাথ, গলায় লেগেছে ফাঁস ।
কৃপা - অসি ধরি, বন্ধন ছেদিয়া, বিনোদে করহ দাস ।।
শ্রীশ্রীবরাহ ভগবান কী জয়! নিতাই গৌর প্রেমানন্দে হরি বোল।

No comments:
Post a Comment