Tuesday, October 12, 2021

🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚

💐পাশাঙ্কুশা একাদশী💐

🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚

 

হরে কৃষ্ণ, আগামী ১৬/১০/২০২১ ইং রোজ - শনিবার পাশাঙ্কুশা একাদশী I

(পারণ - পরদিন পূর্ব্বাহ্ন ০৯/ ২৮ মিঃ মধ্যে একাদশীর পারণ)

আপনি নিজে একাদশী ব্রত পালন করুন অন্যকে পালনে উৎসাহিত করুন।

 

''কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ

অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।''     চৈতন্যচরিতামৃত( মধ্য ২০/১১৭)

অর্থাৎ,- শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড় প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই মায়া তাকে জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান, কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণে আদি শাস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন।

 

ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়। শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বত্তোম। শ্রবণ, কীর্ত্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেরই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগিতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

 

🌻পাশাঙ্কুশা একাদশী মাহাত্ম্য🌻

🍁🌸🦚💐🏵🌺🌷🌺🏵💐🦚🌸🍁

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম "পাশাঙ্কুশা" I ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে এই তিথির মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।

 

ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বললেন,- "হে মধুসুদন! আশ্বিন শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি? এই ব্রতের মাহাত্মই বা কি? তদুত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন,- "হে রাজেন্দ্র! আশ্বিনের শুক্লপক্ষীয়া একাদশীপাশাঙ্কুশা’  নামে প্রসিদ্ধা। কেউ কেউ একে পাপাঙ্কুশাও বলে থাকেন।

 

এই একাদশীতে অভিষ্ট ফল লাভের জন্য মুক্তিদাতা পদ্মনাভের পূজা করবে। শ্রীহরির নাম-সংকীর্ত্তন  দ্বারা পৃথিবীর সর্ব তীর্থের ফল লাভ হয়। বদ্ধ জীব মোহবশত বহু পাপকর্ম করেও ভগবান শ্রীহরির শরণাপন্ন হয়ে প্রণাম নিবেদনে নরক যাতনা থেকে রক্ষা পায়। এই একাদশীর মহিমা শোনার ফলে নিদারুণ যমদণ্ড থেকে মুক্তি লাভ হয়।

 

শ্রীহরিবাসর ব্রতের মতো ত্রিভুবনে পবিত্রকারী আর কোনো বস্তু নেই। হাজার হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞ এবং শত শত রাজসূয় যজ্ঞ এই ব্রতের শত ভাগের একাংশের সমান হয় না। এই ব্রত পালনে স্বর্গবাস হয়। মুক্তি, দীর্ঘায়ু, আরোগ্য, সুপত্নী, বন্ধু প্রভৃতি অনায়াসে লাভ করা যায়।

 

হে রাজন! গয়া, কাশী এমনকি কুরুক্ষেত্রও শ্রীহরিবাসর অপেক্ষা পূণ্যস্থান নয়। হে ভূপাল! একাদশী উপবাস ব্রত করে রাত্রি জাগরণ করলে অনায়াসে বিষ্ণুলোকে গতি হয়। এই পাশাঙ্কুশা ব্রতের ফলে মানুষ সর্বপাপ মুক্ত হয়ে গোলোকে গমন করতে সমর্থ হয়।

 

এই পবিত্র দিনে যিনি স্বর্ণ, তিল, গাভী, অন্ন, বস্ত্র, জল, ছত্র, পাদুকা দান করেন, তাকে আর যমালয়ে যেতে হয় না। যারা এসকল পুণ্যকার্য করে না, তাদের জীবন কামারশালার হাপরের মতো বিফল। নিষ্ঠার সাথে এই ব্রত পালনে উচ্চকুলে নিরোগ দীর্ঘায়ু শরীর লাভ হয়।

 

অত্যন্ত পাপাচারীও যদি এই পুণ্যব্রতের অনুষ্ঠান করে তবে সেও রৌরব নামক মহাযন্ত্রনা থেকে মুক্ত হয়ে বৈকুণ্ঠ সুখ লাভ করে। কৃষ্ণভক্তি লাভই শ্রীএকাদশী ব্রতের মুখ্য ফল। তবে আনুষাঙ্গিক রূপে স্বর্গ, ঐশ্বর্যাদি অনিত্য ফল লাভ হয়ে থাকে।

 

★★★সবাইকে অনুরোধ রইল অবশ্যই মনে রাখবেন যে, একাদশী ব্রত বা কোন উপবাস মানেই কিন্তু শুধু না খেয়ে থাকা নয়,বরং শুদ্ধ/পবিত্র দেহ,মন নিয়ে ব্রত/উপবাস রেখে নিরন্তর "ভগবানের নাম জপ" হরিকথা শ্রবণ, কীর্ত্তন,গীতাপাঠ করে "ভগবান কে প্রসন্ন/খুশি করাই  ব্রত/উপবাসের মূল উদ্দেশ্য"★★★

‘’একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।

প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব।।‘’

এই মন্ত্র পাঠ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পারণ করতে হয়। গীতার মাহাত্ম্যে উল্লেখ আছে

‘’যোহধীতে বিষ্ণুপর্বাহে গীতাং শ্রীহরিবাসরে।

স্বপন জাগ্রৎ চলন তিষ্ঠন শত্রুভির্ন হীয়তে।।‘’

অর্থাৎ,-  শ্রীবিষ্ণুর উৎসবের দিনে, একাদশী জন্মাষ্টমীতে যিনি গীতা পাঠ করেন , তিনি চলুন বা দাড়িয়ে থাকুন, ঘুমিয়ে বা জেগে থাকুন,(যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন) শত্রু কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারেনা।

 

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু জীবে দয়া করি'

স্বপার্ষদ স্বীয় ধাম সহ অবতরি I I

 

অত্যন্ত দুর্ল্লভ প্রেম করিবারে দান।

শিখায় শরণাগতি ভকতের প্রাণ I I

 

দৈন্য, আত্মনিবেদন, গোপ্তৃত্বে বরণ।

'অবশ্য রক্ষিবে কৃষ্ণ'—বিশ্বাস পালন I I

 

ভক্তি-অনুকূল মাত্র কার্য্যের শ্বীকার।

ভক্তি-প্রতিকূল ভাব-বর্জ্জনাঙ্গীকার I I

 

ষড়ঙ্গ শরণাগতি হইবে যাঁহার।

তাঁহার প্রার্থনা শুনে শ্রীনন্দকুমার I I

 

রূপ-সনাতন-পদে দন্তে তৃণ করি'

ভকতিবিনোদ পড়ে দুই পদ ধরি' I I

 

কাঁদিয়া কাঁদিয়া বলে, আমি ' অধম।

শিখায়ে শরণাগতি করহে উত্তম I I

জয় শ্রীকৃষ্ণের জয়জয় শ্রীএকাদশী মহাব্রতের জয়  


 

No comments:

Post a Comment

🌳🏵️🌺🌷🌺🏵️🌳 🌷🌻 চন্দন যাত্রা 🌷 🌳🏵️🌺🌷🌺🏵️🌳 🍇 বিশেষ পোষ্ট 🍇 শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু , গুরু , বৈষ্...