Friday, July 16, 2021

🌳🦚💐🏵🌺🌷🌺🏵💐🦚🌳

🌷🌻💐শ্রীহেরা -পঞ্চমী💐🌻🌷

🌳🦚💐🏵🌺🌷🌺🏵💐🦚🌳

বিশেষ পোষ্ট

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ

সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I শ্রীলক্ষ্মীদেবীর বিজয় যাত্রা শ্রীহেরা -পঞ্চমী তিথির সকলকে জানাই কৃষ্ণপ্রীতি শুভেচ্ছা অভিনন্দন।

নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে

বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ ।।


‘’গুরু - বৈষ্ণব  - ভগবান তিনিহেঁ স্মরণ

তিনেহেঁ স্মরণ হইতে হয় বিঘ্ন বিনাশন ।।

অনায়াসে হয় নিজ বাঞ্ছিত পূরণ I’’

 

গুরবে গৌরচন্দ্রায় রাধিকায়ৈ তদালয়ে।

কৃষ্ণায় কৃষ্ণভক্তায় তদ্ভক্তায় নমো নমঃ।।

 

 শ্রীহেরা -পঞ্চমী বা শ্রীলক্ষ্মীবিজয় উৎসব

রথযাত্রার পরের পঞ্চমীকে  "হেরাপঞ্চমী’’ বলা হয়। বাংলা ভাষায়  ‘হেরা’  এবং ওড়িয়া ভাষায়হেরিবা’ ( ହେରିଵା) শব্দের অর্থ - ‘দেখা এদিন মহালক্ষ্মীদেবী গুণ্ডিচা মন্দিরে গিয়ে শ্রীজগন্নাথ দেবকে দেখে আসেন, এজন্য উৎকল - বাসীরা এদিনকে 'হেরা-পঞ্চমী'  বলে থাকেন। উৎকলের কোন কোন সম্প্রদায় উৎসবটিকে 'হরাপঞ্চমীও' বলেন, আবার কেউ কেউ  'হোরা-পঞ্চমী'  বলেন। আর যেহেতু পঞ্চমীতে শ্রীলক্ষ্মীদেবী শ্রীমন্দির হইতে বাইরে গমন (বিজয়) করেন; এজন্য এই উৎসবকেলক্ষ্মীবিজয় বলা হয়। শ্রীল কবি কর্ণপুর গোস্বামী শ্রীচৈতন্য চন্দ্রোদয় নাটকে (১০/৬৫) একে  'হেরা'  মহোৎসব' বলে উল্লেখ করেছেন। শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ উক্ত উৎসবকে 'শ্রীলক্ষ্মী বিজয় উৎসব' বলে লিখেছেন।

রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ তাঁর ভ্রাতা বলরাম ভগিনী সুভদ্রাকে নিয়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান এবং সেখানে আট দিন অবস্থান করেন। শ্রীজগন্নাথ দেবের পত্নী মহালক্ষ্মীদেবী এই কয়দিন শ্রীমন্দিরে একাকী থাকেন। জগন্নাথের উপর মহালক্ষ্মী দেবীর খুব অভিমান হয়।  ক্রুদ্ধ হয়ে 'হেরা - পঞ্চমী’  তিথিতে শ্রীযমেশ্বর শিব দেবদাসীগণকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলক্ষ্মীদেবী নরেন্দ্র সরোবরের তীরে গুণ্ডিচা মন্দিরের প্রথম দ্বারে উপস্থিত হন। লক্ষ্মীদেবীকে দেখে শ্রীজগন্নাথের সেবক দয়িতাগণ ভোগ মন্দিরের দ্বার বন্ধ করে দেন। তারপর শ্রীলক্ষ্মীদেবী হেরাগোহিরী সাহীর মধ্যে গমন করলে সেখানে তাঁর ভোগ হয়।


এরপর সেখান থেকে তিনি শ্রীমন্দির প্রত্যাবর্তন করেন। শ্রীজগন্নাথ যেদিন 'বাহুরা- বিজয়’  (উল্টোরথ) বা পুনর্যাত্রা করেন, সেদিন রথ রাজ প্রাসাদের সম্মুখে উপস্থিত হলে শ্রীলক্ষ্মীদেবী, তাঁর দাসীগণ সহ পাল্কীতে করে সেখানে উপস্থিত হন। শ্রীজগন্নাথের মালা শ্রীলক্ষ্মীদেবীর গলদেশে প্রদত্ত হলে তিনি 'বন্দাপনা' (বরণ করা) তন্ডুল, দূর্বা প্রদীপ দ্বারা শ্রীজগন্নাথের আরতি করে রথ -পরিক্রমান্তে শ্রীমন্দিরে গমন করেন

অন্য একটি প্রবাদ অনুসারে

লক্ষীদেবী ঐদিন শ্রীজগন্নাথের অন্বেষণে গুণ্ডিচা মন্দিরে একটি পাল্কীতে করে সুবর্ণ মহালক্ষ্মী রূপে এসে যত শীঘ্র সম্ভব মন্দিরে ফেরার জন্য জগন্নাথকে ভয় দেখান। মহালক্ষ্মীকে তুষ্ট করার জন্য জগন্নাথ তাঁকেআজ্ঞা মালা’ (সম্মতি সূচক মালা) উপহার দেন। মহালক্ষ্মীকে ক্রুদ্ধ দেখে সেবকেরা গুণ্ডিচার প্রধান দরজাটি বন্ধ করে দেন। মহালক্ষ্মীনকচন দ্বার’  দিয়ে প্রধান মন্দিরে ফিরে আসেন।

প্রভুর ছুটি কাটানোর এই অবসরে তাঁর স্ত্রীর স্বামী- সন্দর্শনের সৌভাগ্য ঘটে না। দূর থেকেই গুণ্ডিচায় প্রভুকে দর্শন করে ক্ষান্ত দিতে হয় লক্ষ্মীকে। রথের কাছ থেকে মন্দিরের সামনে আরতি সম্পন্ন করেন লক্ষ্মীদেবী। তারপরে রাগের চোটে রথের একখানা কাঠ ভেঙে শ্রী মন্দিরে ফিরে যান জগন্নাথ -জায়া। জগন্নাথ দেবের বিরহে এই কয়েকটি দিন লক্ষীদেবীর মন বেশ খারাপ।

স্কন্দপুরাণে জগন্নাথ মন্দিরের হেরা পঞ্চমী উৎসবের উল্লেখ আছে। মাদলা পাঁজি অনুসারে, এই উৎসব শুরু হয়েছিল রাজা কপিলেন্দ্র দেবের রাজত্বকালে। তার আগে হেরা পঞ্চমী মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে প্রতীকী উপায়ে পালিত হত। রাজা কপিলেন্দ্র দেব সেই প্রথার অবসান ঘটান এবং সোনার মহালক্ষ্মী মূর্তি গড়িয়ে এই নূতন রীতিতে উৎসবটির প্রচলন করেন।

🏵️💐জয় শ্রীলক্ষ্মীদেবীর জয়🏵️💐🏵️জয় শ্রীগুণ্ডিচা মাতার জয়💐🏵️





 

No comments:

Post a Comment

💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐 🍁 জয়া একাদশী 🍁 💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐 শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু , গুরু , বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের ...