Monday, August 30, 2021

🌳🦜💐🦚🏵️🌺🌷🌺🏵️🦚💐🦜🌳

🐰🦘🦢🐇শ্রীনন্দোৎসব🐇🦢🦘🐰

🌳🦜💐🦚🏵️🌺🌷🌺🏵️🦚💐🦜🌳

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ

সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I

‘’গুরু - বৈষ্ণব  - ভগবান তিনিহেঁ স্মরণ ।

তিনেহেঁ স্মরণ হইতে হয় বিঘ্ন বিনাশন ।।

অনায়াসে হয় নিজ বাঞ্ছিত পূরণ  I I‘’

 

গুরবে গৌরচন্দ্রায় রাধিকায়ৈ তদালয়ে।

কৃষ্ণায় কৃষ্ণভক্তায় তদ্ভক্তায় নমো নমঃ।।

 

‘’তুণ্ডে তাণ্ডবিনী রতিং বতনুতে তুণ্ডাবলী লব্ধয়ে ।

কর্ণ ক্রোড়কড়ম্বিনী ঘটরতেকর্ণা র্ব্বুদেভ্যঃ স্পৃহাং I I

চেতঃ প্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সৰ্ব্বেন্দ্রিয়াণাং কৃতিং ।

নোজানে জনিত কিয়ন্তিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতিবর্ণদ্বয়ী  I I‘’  (বিদগ্ধ মাধব)


''কৃষ্ণ'' এই দুইটি বর্ণ যে কি পরিমাণ অমৃতদিয়া গঠিত হইয়াছে তাহা জানিনা । যখন ইহা রসনাতে নৃত্য করিতে থাকে, তখন আরও বহু রসনা লাভ করিতে ইচ্ছাহয়, যখন কর্ণরন্ধ্রে অঙ্কুরিতহয়, তখন অৰ্ব্বুদ সংখ্যক কৰ্ণ পাইবার জন্য স্পৃহা জন্মে,  এবং চিত্ত প্রাঙ্গণে প্রবিষ্ট হইলে সমুদায় ইন্দ্রিয় ব্যাপার ইহার নিকট পরাস্ত হইয়া যায় । এই মাধুর্য্য- রস সিঞ্চিত হরিনাম- মাহাত্ম্য- ব্যঞ্জক অপূর্ব শ্লোক পাঠ করিতে করিতে রাশিক ভক্তগণ প্রেমাবিষ্ট হইয়া পড়েন ।   

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর পরই হয় নন্দোৎসব। আনন্দময় ভূমা পুরুষ করুণায় মাখা মনুষ্য হইয়া ভূভারহরণ, ধর্মসংস্থাপন এবং রাগমার্গের ভজন প্রবর্তনের জন্য ভূমিতে অবতরণ করিলেন। প্রথমে দেবকী-বসুদেব-নন্দনরূপে কংস কারাগারে, পরে বসুদেব কর্তৃক বৃন্দাবনে নন্দরাজার গৃহে আনীত হইলেন যশোদানন্দন নামে। শ্রীকৃষ্ণযামল হরিবংশ গ্রন্থে এক মধুর সংবাদ আছে- ভাদ্রের একই কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে অর্ধরাত্রে একই সময় মা দেবকী মা যশোদা উভয়েরই নিকট তিনি আবির্ভূত হইয়াছিলেন। যশোদার নিকট স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণরূপে এবং দেবকীর নিকট নিজেরই অন্য মূর্তি বাসুদেবরূপে তিনি আবির্ভূত হইলেন। আবার যশোদার নিকট তাঁহার আবির্ভাবের পরই যমজ একটি কন্যাও আবির্ভূত হইলেন।

কন্যাটির নাম যোগমায়া দূর্গাদেবী। তাঁর আবির্ভাব অষ্টমী শেষে নবমী তিথির আরম্ভে। বসুদেব যশোদার শয্যায় বাসুদেবকে রাখিলে তিনি যশোদা-নন্দনের সহিত একীভূত হইলেন আর কারাগারে দেবকীর শয্যায় যোগমায়াকে রাখিলেন। পুত্রজন্মে নন্দ মহারাজা, গোপ-গোপী সকলের আনন্দ হইল। কত দান, প্রসাধন, নৃত্যগীতাদি ভূরিভোজন হইল। নন্দ মহারাজ পুত্রজন্মের জন্য এই মহোৎসব স্মরণে ভারতবর্ষের হিন্দুগন ভগবানের জন্মতিথিকৃত্যের পরদিন আজও উৎসব করিয়া থাকেন। নন্দোৎ আনন্দোৎসব। কৃষ্ণজন্মাষ্টমী তিথির অপূর্ব তাৎপর্য অভিনব বার্তা। প্রতি বৎসর ভাদ্রের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভক্তগণের স্মৃতিপথে উপস্থিত হয়। যিনি বাক্য মনের অগোচরে পরব্রহ্ম পুরুষ তিনি অনুগ্রহ করিয়া পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়া মনুষ্য দেহে মনুষ্যের মত কত ক্রীড়া করিয়াছেন।

যিনিভয়ং ভয়ানাং ভীষণং ভীষাণাণাং’,যিনি পাপী দুরাচার দুষ্টগণের শাস্তা, যিনি সর্বলোকমহেশ্বর, বিরাট পরমেশ্বর তিনিই আবার প্রভু, সখ্য, পুত্র প্রাণপতিরূপে প্রেম আস্বাদন করিয়া ভক্তকেও প্রেমাণর্বে নিমগ্ন করিয়াছেন। ক্ষুধা পিপাসা, ভয় দুঃখের অতীত হইয়াও ক্ষুধিত তৃষ্ণার্ত, ভীত কম্পিত ক্রন্দনরত হইয়া অপূর্ব অভূতপূর্ব প্রেমলীলা দেখাইয়াছেন। তাঁহার এই সকল লীলামৃত আস্বাদন করিয়া কলিহত জীব মায়ার কবল হইতে মুক্ত হইয়া তাঁহাকে লাভ করিতে সমর্থ হইবে। এই জন্যই তাঁহার এই ভূবন পাবনী লীলার প্রকাশ। বৃদ্ধ নন্দ মহারাজ আত্মজ লাভ করিয়া আহ্লাদিত চিত্তে উৎসব করিয়াছিলেন বলিয়া আনন্দবিগ্রহ নন্দনন্দেরএই জন্মোৎসবটিনন্দোৎসবনামে বিখ্যাত। এই শব্দটির অন্য অর্থ আছে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হইতে প্রায় প্রতিটি লীলার মধ্যে যে শক্তির খেলার পরিচয় আছে, সর্বশক্তিমান ভগবানের উৎসবের তাঁহার সেই উন্মুখমোহিনী অঘটনঘটন পটীয়সী যোগমায়া শক্তির উৎসবও এই নন্দোৎসবের দিন অনুষ্ঠেয়। নন্দার উৎসব এই অর্থেও নন্দোৎসব শব্দ নিষ্পন্ন হয়। শ্রীশ্রীভগবতী যোগমায়া দূর্গাদেবীর আর এক নাম নন্দা। মার্কেন্ডেয় পুরাণে দেবীর মূর্তির রহস্যের মধ্যে এই নাম উল্লিখিত হইয়াছে। ‘’নন্দা ভগবতী নাম যা ভবিষ্যতি নন্দজ’’ এই নন্দতনয়া নন্দাদেবী চণ্ডীতে ‘’নন্দগোপাগৃহে জাত যশোদাগর্ভস্মভবা’’ বলিয়া উক্ত হইয়াছেন। ইনি কৃষ্ণানুজা এবং কংস তাঁহাকে শিলাপৃষ্ঠে নিক্ষেপ করিলে তাঁহার হস্তচুত্য হইয়া মস্তকে পদাঘাত করিয়া আকাশেসায়ূধাষ্ট মহাভূজারূপে দর্শন দিয়াছিলেন তৎপর এই মহাদেবী দূর্গা, কামাখ্যা বিন্ধ্যবাসিনী নামে পূজিতা হইয়া আসিতেছেন।

ভগবান আবির্ভূত হইবার পূর্বে তাঁহার এই মহাশক্তিকে ব্রজধামে আসিয়া লীলারআসর প্রস্তুত্ত করিতে আদেশ দিয়াছিলেন। গচ্ছ দেবী ব্রজং ভদ্রে। ভাগবতে ভবিষ্যপুরাণে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রতকথার মধ্যে আদেশ আছে- তাঁহার জন্মোৎসবের ন্যায় ভগবতীর জন্মোৎসব করিতে হইবে। ভগবান ভগবতী উভয়েরই মহোৎসব নন্দোৎসব দিবসে অবশ্য করণীয়।


কোথা গেল নন্দ ঘোষ হের দেখ আসি  
তব গৃহে উদয় হইয়াছে কত শশী ।। 

এতেক দিবসে জন্ম হইল সফল  
মনের আনন্দে দেখ বদন কমল ।। 

যশোদার পুত্র হইল পড়ি গেল সাড়া  
মহানন্দে ধাইয়া আইল যত গোয়াল পাড়া ।। 

নন্দের মন্দিরে রে গোয়াল আইল ধাইয়া  
হাতে লড়ি কান্ধে ভার নাচে তাথৈ থৈয়া ।। 

সবে বলে নন্দ ঘোষ বড় ভাগ্য তোর  
তোমার ঘরে নাহি আজি আনন্দের ওর ।। 

নাচেরে হরিষে নন্দ পুত্র - মুখ চাইয়া  
চৌদিকে গোয়ালা নাচে করতালি দিয়া ।। 

স্বর্গে নাচে দেবগণ পাতালে নাচে ফণি  
অন্তঃপুরে রাণী নাচে পাইয়া নীলমণি ।। 

শিব নাচে ব্রহ্মা নাচে আর নাচে ইন্দ্র  
গোকুলের গোয়ালা নাচে পাইয়া গোবিন্দ ।। 

দধি হরিদ্রা আনে আর গোরোচনা  
দুবাহু পসারি আসে আহিরী অঙ্গনা ।। 

যদুনাথ দাসে বলে শুন নন্দরাণী  
কত পুণ্যফলে তুমি পাইলা নীলমণি ।।

 ‘’আশীর্বাদ কর সবে হইয়া সদয় ,

কল্যাণ কুশলে রহু আমার তনয়

তোমা সবাকার পদ ভরসার বলে ,

নীলমণি পাইয়াছি অনেক পুন্যফলে

সাত নাহি পাঁচ নাহি এই ধন সারা

পরাণ পুতলি দুটি নয়নের তারা

চিরজীবী হইয়া গোকুলে করু বাস ,

বড় হইলে হবে তোমা সবাকার দাস ‘’

যশোদা মায়ের কথা শুনিয়া শুনিয়া

দীনবন্ধু দাস হাসে উলসিত হইয়া ।।

🐘🐎হাতি ঘোড়া পালিকি🎊🎉🎆🎉🎊 জয় কানাইয়া লাল কি🐎🐘 




 

No comments:

Post a Comment

🌳🏵️🌺🌷🌺🏵️🌳 🌷🌻 চন্দন যাত্রা 🌷 🌳🏵️🌺🌷🌺🏵️🌳 🍇 বিশেষ পোষ্ট 🍇 শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু , গুরু , বৈষ্...