🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚
🌳🌻🦜উপদেশামৃত🦜🌳
🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚
🍇খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ
বিষয়🍇
শ্রী
শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ
সকল
সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I
‘’গুরু - বৈষ্ণব - ভগবান
তিনিহেঁ স্মরণ
।
তিনেহেঁ স্মরণ হইতে হয় বিঘ্ন বিনাশন ।।
অনায়াসে হয় নিজ বাঞ্ছিত পূরণ । I’’
আজানুলম্বিত – ভুজৌ কনকাবদাতৌ,
সংকীর্ত্তনৈকপিতরৌ কমলায়তাক্ষৌ ।
বিশ্বম্ভরৌ দ্বিজবরৌ যুগধর্ম্মপালৌ,
বন্দে জগৎ প্রিয়করৌ করুণাবতারৌ I I
💐শ্রীলরূপ গোস্বামী কৃত ..::!!::... 🌷উপদেশামৃত🌷
🍁প্রথম পর্ব্ব🍁
‘’বাচো বেগং মনসঃ ক্রোধবেগং,
জিহ্বাবেগমুদরোপস্থবেগম্।
এতান্
বেগান্ যো বিষহেত ধীরঃ,
সর্বামপীমাং পৃথিবীং স শিষ্যাৎ'' ॥১॥
শব্দের অর্থঃ- বাচঃ — বাক্যের, বেগম — বেগ, মনসঃ — মনের, ক্রোধ — ক্রোধের, জিহ্বা — জিহ্বার, উদর-উপস্থ — উদর ও জননেন্দ্রিয়, এতান — এইসব, বেগান্ — বেগগুলি, যঃ — যে/যিনি, বিষহেত — নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ, ধীরঃ — শান্ত, সর্বাম — সব, অপি — নিশ্চিত, ইমাম্ — এই, পৃথিবীম্ — পৃথিবী, সঃ —তিনি, শিষ্যাৎ — শিষ্য করতে পারেন।
অনুবাদঃ- ''যে সংযমী ব্যক্তি বাক্যের বেগ, ক্রোধের বেগ, জিহ্বার বেগ, মনের বেগ, উদর এবং উপস্থের বেগ; এই ষড় বেগ দমন করতে সমর্থ, তিনি সমগ্র পৃথিবী শাসন করতে পারেন।''
‘’অত্যাহারঃ প্রয়াসশ্চ, প্রজল্পো নিয়মাগ্রহঃ।
জনসঙ্গশ্চ লৌল্যঞ্চ, ষড়ভির্ভক্তির্বি নশ্যতি'' ॥২॥
শব্দের অর্থঃ- অত্যাহারঃ — অধিক আহার/সঞ্চয়, প্রয়াসঃ — অধিক প্রচেষ্টা, চ — এবং, প্রজল্পঃ — অনাবশ্যক গ্রাম্যকথা, নিয়ম — নিয়মনীতি, আগ্রহঃ — আগ্রহ, জন-সঙ্গ — জড়জাগতিক বিষয়ী কৃষ্ণভক্তের সঙ্গ, লৌল্যম — অত্যধিক লোভ, ষড়ভিঃ — এই ছয়টি দোষ দ্বারা , ভক্তিঃ — ভক্তি, বিনশ্যতি — বিনাশ প্রাপ্ত হয়।
অনুবাদঃ- ''প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার গ্রহণ বা প্রয়োজনাধিক অর্থ সঞ্চয়, পার্থিব সম্পদ লাভের জন্য অত্যধিক প্রচেষ্টা করা, কৃষ্ণ-বিহীন অনাবশ্যক গ্রাম্য-কথন, পারমার্থিক জীবনে উন্নতি লাভের জন্য প্রয়াস না করে শুধুমাত্র শাস্ত্রের নিয়ম-নীতিগুলি অনুসরণ করার জন্যই তাদের অনুশীলন করার প্রচেষ্টা বা শাস্ত্রের নির্দেশ অমান্যপূর্বক ব্যক্তিগত খেয়াল বা ইচ্ছানুসারে কার্য-সম্পাদন করার প্রচেষ্টা, কৃষ্ণভাবনা বিমুখ জড়বিষয়ী লোকের সঙ্গ করা, পার্থিব বিষয় লাভ করার বাসনায় ব্যাকুল হওয়া। কোন ব্যক্তি যখন উপরোক্ত ছয়টি দোষের দ্বারা আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তার পারমার্থিক জীবন বিনাশপ্রাপ্ত হয়।''
‘’উৎসাহাৎ নিশ্চয়াদ্ধৈর্য্যা, তত্তৎকর্ম প্রবর্তনাৎ।
সঙ্গত্যাগাৎ সতো বৃত্তেঃ, ষড়ভির্ভক্তিঃ প্রসিধ্যতি'' ॥৩॥
শব্দের অর্থঃ— উৎসাহাৎ — উৎসাহের সঙ্গে, নিশ্চয়াৎ — দৃঢ় বিশ্বাসের দ্বারা, ধৈর্যাৎ — ধৈর্য সহকারে, তত্তৎকর্ম — ভক্তিযোগের অনুকুলে বিভিন্ন কর্ম, প্রবর্তনাৎ — সম্পাদন করে, সঙ্গ-ত্যাগাৎ — অসৎসঙ্গ ত্যাগের দ্বারা, সতঃ —পূ্র্ববর্তী মহাজনদের, বৃত্তেঃ - পদাঙ্ক অনুসরণের দ্বারা, ষড়ভিঃ — এই ছয়টির সাহায্যে, ভক্তিঃ — ভক্তি, প্রসিধ্যতি — সিদ্ধিলাভ করে থাকেন।
অনুবাদঃ- ''ভক্তিযোগে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মে সেবাকার্য সম্পাদন করার অনুকূলে ছয়টি প্রধান নিয়ম বা বিধি বর্তমান আছে। যথা, সেবাকার্যে উৎসাহ, দৃঢ় বিশ্বাস বা সংকল্প, ধৈর্য-ধারণ, নববিধা ভক্তির বিধি অনুসারে সেবাকার্য সম্পাদন, আসক্তি ও অসৎসঙ্গ ত্যাগ, পূর্বতন আচার্য - বর্গের পদাঙ্ক অনুসরণ। এই ছয়টি বিধি অনুসারে পারমার্থিক জীবন-যাপন করলে ভক্তিযোগে অবশ্যই সিদ্ধিলাভ করা যাবে।''
‘’দদাতি প্রতিগৃহ্নাতি, গুহ্যমাখ্যাতি পৃচ্ছতি।
ভুঙক্তে ভোজয়তে চৈব, ষড়বিধং প্রীতিলক্ষণম্'' ॥ ৪॥
শব্দার্থঃ—দদাতি — দান করেন, প্রতিগৃহ্নাতি — বিনিময়ে গ্রহণ করেন, গুহ্যম্ — গোপনীয় বিষয়, আখ্যাতি — ব্যক্ত করেন, পৃচ্ছতি — জিজ্ঞাসা করেন, ভুঙক্তে — আহার করেন, ভোজয়তে — আহার করান, চ — এবং ,এব — নিশ্চয়, ষড়বিধং — ছয় প্রকার প্রীতিলক্ষণম্ — প্রীতি বা ভালবাসার লক্ষণ।
অনুবাদঃ- ''ভগবদ্ভক্তকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য প্রীতিপূর্বক দান, তাঁর নিকট হইতে কোন দ্রব্য প্রতিগ্রহণ, নিজের মনের কথা ভক্তের নিকট ব্যক্ত করা এবং তাঁর নিকট হইতে ভজন বিষয়ক গুহ্য তথ্যাদি জিজ্ঞাসা করা, ভক্ত প্রদত্ত প্রসাদ গ্রহণ এবং ভক্তকে প্রীতিপূর্বক প্রসাদ ভোজন করানো; ভক্তসঙ্গে প্রীতি বিনিময়ের এই ছয়টি প্রধান লক্ষণ।
‘’কৃষ্ণেতি যস্য গিরি, তং মনসাদ্রিয়েত,
দীক্ষাস্তি চেৎ, প্রণতিভিশ্চ ভজন্তমীশম্।
শুশ্রূষয়া ভজনবিজ্ঞমনন্যমন্য,
নিন্দাদিশূন্যহৃদমীপ্সিত-সঙ্গলব্ধ্যা'' ॥৫॥
শব্দার্থঃ—কৃষ্ণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্যনাম, ইতি — এইভাবে, যস্য — যার, গিরি — বাক্যে, তম্ — তার, মনসা — মনের দ্বারা, আদ্রিয়েত — আদর করা উচিৎ, দীক্ষা — দীক্ষা, অস্তি — হয়, চেৎ — যদি, প্রণতিভিঃ — প্রণামাদির দ্বারা, চ — ও, ভজন্তম — ভগবত সেবায় প্রবৃত্ত, ঈশম্ — পরমেশ্বর ভগবানের নিকট, শুশ্রূষয়া — প্রত্যক্ষ সেবার জন্য, ভজনবিজ্ঞম — যিনি ভজনে উন্নত, অনন্যম — নিরবচ্ছিন্নভাবে, অন্য-নিন্দাদি — অন্যের নিন্দা ইত্যাদি, শূন্য — সম্পূর্ণ বর্জ্জিত, হৃদম — যাঁর হৃদয়, ঈপ্সিত — আকাঙ্খিত, সঙ্গ — সঙ্গ, লব্ধ্যা — লাভের দ্বারা ।
অনুবাদঃ- ''যে ভগবদ্ভক্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্যনাম কীর্ত্তন করেন, তাঁকে মনে মনে আদর করা উচিত এবং যিনি দীক্ষিত হয়ে শ্রীবিগ্রহের সেবায় রত আছেন, তাঁর উদ্দেশ্যে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করা উচিত; আর যে শুদ্ধভক্ত নিরন্তর ভগবদ্ভজনে প্রকৃত উন্নত, যাঁর হৃদয় অন্যের নিন্দাদি হইতে সম্পূর্ণ মুক্ত তাঁর সঙ্গ করা উচিত এবং তাঁর অনুগত হয়ে তাঁর সেবা করা উচিত।
‘’দৃষ্টৈঃ স্বভাবজনিতৈর্বপুষশ্চ দোষৈ-
র্ন
প্রাকৃতত্বমিহ ভক্তজনস্য পশ্যেৎ।
গঙ্গাম্ভসাং ন খলু বুদবুদফেন-পঙ্কৈ-
র্ব্রক্ষদ্রবত্বমপগচ্ছতি নীরধর্মৈঃ'' ॥৬॥
শব্দার্থঃ—দৃষ্টৈঃ — সাধারণ দৃষ্টিতে, স্বভাবজনিতৈ — স্বভাব দোষে দুষ্ট, বপুষঃ —দেহের, চ — ও, দোষৈঃ — দোষের দ্বারা, ন — নয়, প্রাকৃতত্বম্ — প্রাকৃত, ইহ — এই জগতে , ভক্তজনস্য — ভক্তজনের, পশ্যেৎ — দেখা উচিত, গঙ্গাম্ভসাং — গঙ্গাজলের , ন — না, খলু — নিশ্চিত , বুদবুদফেন -পঙ্কৈ — বুদবুদ, ফেনা ও কাদার দ্বারা, ব্রক্ষদ্রবত্বম্ — অপ্রাকৃততত্ত্ব, অপগচ্ছতি — অপচয়, নীরধর্মৈঃ — জলের ধর্ম।
অনুবাদঃ- ''একজন শুদ্ধভক্ত, যিনি তাঁর স্বরূপে অধিষ্ঠিত হয়েছেন অর্থাৎ শুদ্ধ ভগবৎ-চেতনা লাভ করেছেন, তিনি প্রাকৃত দৃষ্টিতে কোন কিছু দর্শন করেন না। এরূপ ভক্তকেও প্রাকৃত দৃষ্টিতে বিচার করা উচিত নয়। আপাত-দৃষ্টিতে কোন শুদ্ধভক্তকে নিচ-কুলোদ্ভব, কুৎসিত, বিকলাঙ্গ বা রোগগ্রস্থ বলে মনে হলেও তাঁকে উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং যদিও সাধারণ দৃষ্টিতে তাঁর সেই দৈহিক ত্রুটি- বিচ্যুতিগুলি থাকতে পারে, কিন্তু শুদ্ধভক্ত কখনও তার দ্বারা কলুষিত হয়ে পড়েন না। এটা ঠিক গঙ্গাজলের মতো। গঙ্গাজল যেমন কখনও কখনও বুদবুদ্, ফেনা বা কাদা-পাঁকের দ্বারা ঘোলা হয়ে যায়, কিন্তু তা বলে গঙ্গার জল অপবিত্র হয়ে যায় না এবং যাঁরা পারমার্থিক জীবনে উন্নত, তাঁরা গঙ্গাজলের গুণাগুণ বিচার না করেই পবিত্রতা লাভ করার জন্য সেই জলে স্নান করে থাকেন।''
ক্রমশ…
নদীয়া - গোদ্রুমে নিত্যানন্দ মহাজন।
পাতিয়াছে
নামহট্ট জীবের কারণ ॥১॥
(শ্রদ্ধাবান জন হে, শ্রদ্ধাবান জন)
প্রভুর আজ্ঞায় ভাই, মাগি এই
ভিক্ষা।
বল ‘কৃষ্ণ’, ভজ ‘কৃষ্ণ’, কর কৃষ্ণ
– শিক্ষা
॥২॥
অপরাধ - শূন্য হ’য়ে লহ কৃষ্ণনাম।
কৃষ্ণ মাতা, কৃষ্ণ পিতা, কৃষ্ণ ধন-প্রাণ
॥৩॥
কৃষ্ণের সংসার কর, ছাড়ি, অনাচার।
জীবে দয়া, কৃষ্ণনাম - সর্বধর্মসার ॥৪॥
আসুন
আমরা বিষয়চিন্তা বাদ দিয়ে হরিনাম নিষ্ঠা সহকারে জপ ও কীর্ত্তন করি।
হরে
কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে I
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।

No comments:
Post a Comment