🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚
🌷🌻বিজয়া একাদশী🌻🌷
🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚
শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ
সকল সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I
‘’হরি - গুরু - বৈষ্ণব তিনিহেঁ স্মরণ।
তিনেহেঁ স্মরণ হইতে বিঘ্ন বিনাশন।।
অনায়াসে হয় নিজ বাঞ্ছিত পূরণ ।।‘’
হরে কৃষ্ণ, আগামী ০৯/০৩/২০২১ ইং রোজ - মঙ্গলবার বিজয়া একাদশী I
(পারণ - পরদিন পূর্ব্বাহ্ন ০৯।৫০ মিঃ মধ্যে একাদশীর পারণ)
আপনি নিজে একাদশী ব্রত পালন করুন ও অন্যকে পালনে উৎসাহিত করুন।
একাদশী ব্রত পালনের নিয়ম:-
সামর্থ্য অনুযায়ী দশমী তে একাহার, একাদশী তে নিরাহার, দ্বাদশীতে একাহার। এতে অসমর্থ হলে শুধু একাদশীতে অনাহার। যদি এতেও অসমর্থ হয়, একাদশী তে পঞ্চশস্য বর্জনীয়, ফলমূল ও কিছু সব্জি গ্রহণের বিধান আছে। যেমন,- গোল আলু, মিষ্টি আলু, কুমড়ো, চাল কুমড়ো, বাদাম তেল/সূর্য্যমুখী তেল/ঘি দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার করা যেতে পারে। এছাড়া দুধ, কলা, আপেল, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, শসা, নারিকেল, মিষ্টি আলু ইত্যাদি ফল আহার করা যাবে। একাদশীর পারণের সময় পঞ্জিকা তে দেওয়া থাকে, এর মাঝে ভগবান কে অন্ন নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করতে হবে। নতুবা একাদশীর ফল লাভ হয়না।
বর্জনীয় পঞ্চ শস্য:-
ধান জাতীয় খাদ্য:- ভাত, খিচুড়ি, মুড়ি, চিঁড়া, খই, সুজি, চালের গুঁড়ো, চালের পিঠে, পায়েস।
গম জাতীয় খাদ্য:- আটা, ময়দা, সুজি, রুটি, বিস্কুট, কেক, নুডলস।
যব বা ভুট্টা জাতীয় খাদ্য:- ছাতু, খই, রুটি ।
ডাল জাতীয় খাদ্য:- মুগ, মশুর, মটর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, বরবটি, শিম, বুট।
সরিষা, তিলের তেল। ( সয়াবিন এর কথা বিতর্কিত) I চা, বিড়ি, সিগারেট,পান, যেকোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য বর্জনীয়। একাদশী তে সহবাস সম্পূর্ণ বর্জন। আমিষ ( পিঁয়াজ, রসুন, ডিম, মাছ, মাংস ) ভক্ষন নিষেধ।
একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য :-
এই ব্রত করলে যে শুধু নিজের পুণ্য লাভ হয় তা নয়, একাদশী পালন কর্ত্তার ( যদি মৃত) পিতা মাতারও স্বর্গ প্রাপ্তি হয়। একাদশীতে নিজে অন্ন ভোজন করলে এবং অপরকে অন্ন ভোজন করালেও নরকগামি হতে হয়। একাদশীর দিন শুধু উপবাস নয়, সারাদিন সংযম, সৎ চিন্তা, কৃষ্ণ নাম জপ, পূজা ও গীতা পাঠ অবশ্য কর্তব্য।
বিঃদ্রঃ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতিও দৃষ্টি রাখা বাঞ্চনীয়:-
একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোত্তম। ঘুমানোর আগেই দাঁত ব্রাশ করে দাঁত ও মুখগহ্বরে লেগে থাকা সব অন্ন পরিষ্কার করে নেওয়া সর্বোত্তম । সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি এবং স্নান করতে হয়। একাদশীতে সব্জি কাটার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোথাও কেটে না যায়। একাদশীতে রক্তক্ষরণ বর্জনীয়। দাঁত ব্রাশ করার সময় অনেকের রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে। তাই একাদশীর আগের দিন রাতেই দাঁত ভালভাবে ব্রাশ করে নেওয়াই সর্বোত্তম।
একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ম্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তিসহকারে পাঠ করতে হয়। যারা একাদশীতে একাদশী প্রসাদ রান্না করেন তাদের পাঁচ ফোড়ন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ পাঁচফোড়নে সরিষা ও তিল থাকতে পারে যা বর্জনীয়। একাদশীতে শরীরে প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ। তেল (শরীরে ও মাথায়), সুগন্ধী, সাবান, শেম্পু ইত্যাদি বর্জনীয়। সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম (শেভ করা এবং চুল ও নখ কাটা) নিষিদ্ধ।
💐বিজয়া একাদশী মাহাত্ম্য💐
ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ‘’বিজয়া’’। স্কন্দ পুরাণে যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে এই তিথির মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠর শ্রীকৃষ্ণকে বললেন,- হে বাসুদেব ! ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর মাহাত্ম্য অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন - হে যুধিষ্ঠির ! এই একাদশী ‘’বিজয়া’’ নামে পরিচিতি । এই একাদশী সর্ম্পকে একসময় দেবর্ষি নারদ, স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করলেন । তিনি এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন, তা আমি এখন তোমাকে বলছি । এই পবিত্র পাপবিনাশকারী ব্রত মানুষকে জয় দান করে বলে বিজয়া নামে প্রসিদ্ধ।
পুরাকালে শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিলেন। সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে তিনি পঞ্চবটী বনে বাস করতেন। সেই সময় লঙ্কাপতি রাবণ দেবী সীতাকে হরন করে। সীতার অনুসন্ধানে রামচন্দ্র চতুর্দিক ভ্রমণ করতে করতে মৃতপ্রায় জটায়ুর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। জটায়ু রাবণের সীতা হরনের সমস্ত বৃত্তান্ত রামচন্দ্রকে জানিয়ে মৃত্যু বরন করে। এরপর বানররাজ সুগ্রীবের সাথে শ্রীরামচন্দ্রের বন্ধুত্ব স্থাপন হয়। ফলে সীতা দেবীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে অন্যান্য বানরসেনা রামচন্দ্রের সাথ দেন। ভগবান রামচন্দ্রের কৃপায় হনুমান লঙ্কায় গমন করেন। সেখানে অশোক বনে সীতাদেবীকে দর্শন করে শ্রীরাম প্রদত্ত অঙ্গুরীয় (আংটি) তাঁকে অর্পন করেন । ফিরে এসে শ্রীরামচন্দ্রের কাছে লঙ্কার সমস্ত ঘটনার কথা ব্যক্ত করেন ।
হনুমানের কথা শুনে রামচন্দ্র সুগ্রীবের পরামর্শে সমুদ্রতীরে যান। সেই দুস্তর সমুদ্র দেখে তিনি লক্ষ্মণকে বললেন,- ‘’হে লক্ষ্মণ! কিভাবে এই অগাধ সমুদ্র পার হওয়া যায়। তার কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।‘’ উত্তরে লক্ষ্মণ বললেন - হে পুরুষোত্তম ! সর্বজ্ঞাতা আদিদেব আপনি, আপনাকে আমি কি উপদেশ দেব? তবে বক্দালভ্য নামে এক মুনি এই দ্বীপে বাস করেন। এখান থেকে অর্ধ - যোজন দূরে তাঁর আশ্রম । হে রাঘব! আপনি সেই প্রাচীন ঋষিশ্রেষ্ঠকে এর উপায় জিজ্ঞাসা করুন। লক্ষ্মণের মনোরম কথা শুনে, তারা সেই মহামুনির আশ্রমে উপনীত হলেন। ভগবান রামচন্দ্র ভক্তরাজ সেই মুনিকে প্রণাম করলেন। বক্দালভ্য মুনি সর্বজ্ঞ ছিলেন।
মুনিবর রামচন্দ্রকে পুরাণপুরুষ বলে জানতে পারলেন। আনন্দভরে জিজ্ঞাসা করলেন- হে রামচন্দ্র! কি কারণে আপনি আমার কাছে এসেছেন,তা কৃপা করে বলুন। শ্রীরামচন্দ্র বললেন,- হে মুনিবর ! আপনার কৃপায় সৈন্যসহ আমি এই সমুদ্র তীরে উপস্থিত হয়েছি। রাক্ষস রাজের লঙ্কা বিজয় করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। যাতে এই ভয়ঙ্কর সমুদ্র উত্তীর্ণ হতে পারি তার উপায় জানবার জন্য আমরা আপনার কৃপা প্রার্থনা করি। মুনিবর প্রসন্নচিত্ত পদ্মলোচন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে বললেন,- ''হে রাম! আপনার অভীষ্ঠ সিদ্ধির জন্য যে শ্রেষ্ঠ ব্রত করণীয় আমি তা বলছি। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘বিজয়া’ নামক একাদশী ব্রতপালনে আপনি নিশ্চয়ই সৈন্যসহ সমুদ্র পার হতে পারবেন।'' এই ব্রতের বিধি শ্রবণ করুন।
বিজয় লাভের জন্য দশমীর দিন সোনা, রূপা, তামা অথবা মাটির কলস সংগ্রহ করে তাতে জল ও আমপাতা দিয়ে সুগন্ধি চন্দনে সাজিয়ে তার উপর সোনার নারায়ণ মূর্তি স্থাপন করবেন। একাদশীর দিন যথাবিধি প্রাতঃস্নান করে কলসের গলায় মালা চন্দন পড়িয়ে উপযুক্ত স্থানে নারকেল ও গুবাক দিয়ে পূজা করবেন। এরপর গন্ধ, পুষ্প, তুলসী, ধূপ-দ্বীপ নৈবেদ্য ইত্যাদি দিয়ে পরম ভক্তিসহকারে নারায়ণের পূজা করে হরিকথা কীর্ত্তনে সমস্ত দিনযাপন করবেন। রাত্রি জাগরণ করে অখণ্ড ঘি - প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত রাখবেন। দ্বাদশীর দিন সূর্যোদয়ের পর সেই কলস বিসর্জনের জন্য কোন নদী,সরোবর বা জলাশয়ের কাছে গিয়ে বিধি অনুসারে পূজা নিবেদনের পরে তা বিসর্জন দেবেন। তারপর ঐ মূর্তি বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে দান করবেন। এই ব্রতের প্রভাবে নিশ্চয়ই আপনার বিজয় লাভ হবে।
ব্রহ্মা বললেন,- হে নারদ! ঋষির কথামতো ব্রত অনুষ্ঠানের ফলে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। সীতাপ্রাপ্তি, লঙ্কাজয়, রাবণ বধের মাধ্যমে শ্রীরামচন্দ্র অতুল কীর্তি লাভ করেছিলেন। তাই যথাবিধি যে মানুষ এই ব্রত পালন করবেন তাদের এ জগতে জয়লাভ এবং পরজগতে অক্ষয় সুখ সুনিশ্চিত জানবে। হে যুধিষ্ঠির! এই কারণে এই বিজয় একাদশী ব্রত পালন অবশ্য কর্তব্য। এই ব্রত কথার শ্রবণ - কীর্ত্তন মাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
★★★সবাইকে অনুরোধ রইল অবশ্যই মনেরাখবেন যে, একাদশী ব্রত বা কোন উপবাস মানেই কিন্তু শুধু না খেয়ে থাকানয়, বরং শুদ্ধ/পবিত্র দেহ, মন নিয়ে ব্রত/উপবাস রেখে নিরন্তর "ভগবানের নাম জপ" হরিকথাশ্রবণ, কীর্ত্তন, গীতাপাঠ করে "ভগবান কে প্রসন্ন/খুশিকরাই ব্রত/উপবাসের মূলউদ্দেশ্য"★★★
‘’একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টি প্রদোভব।।‘’
এইমন্ত্র পাঠ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পারণ করতে হয় । গীতার মাহাত্ম্যে উল্লেখ আছে…
‘’যোহধীতে বিষ্ণুপর্বাহে গীতাং শ্রীহরিবাসরে।
স্বপনজাগ্রৎ চলনতিষ্ঠ ন শত্রুভির্নসহীয়তে।।‘’
অর্থাৎ শ্রীবিষ্ণুর উৎসবের দিনে, একাদশী ও জন্মাষ্টমীতে যিনি গীতাপাঠ করেন , তিনি চলুন বা দাড়িয়ে থাকুন, ঘুমিয়ে বা জেগেথাকুন, (যেঅবস্থাতেই থাকুন না কেন) শত্রু কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।
আত্মনিবেদন, তুয়া পদে করি’,
হইনু পরম
সুখী ।
দুঃখ দূরে
গেল, চিন্তা না রহিল,
চৌদিকে আনন্দ
দেখি ॥১॥
অশোক-অভয়, অমৃত-আধার,
তোমার চরণদ্বয়
।
তাহাতে এখন, বিশ্রাম লভিয়া,
ছাড়িনু ভবের
ভয় ॥২॥
তোমার সংসারে, করিব সেবন,
নহিব ফলের
ভাগী ।
তব সুখ যাহে, করিব যতন,
হ’য়ে পদে অনুরাগী ॥৩॥
তোমার সেবায়, দুঃখ হয় যত,
সেও ত’ পরম সুখ ।
সেবা-সুখ-দুঃখ, পরম সম্পদ,
নাশয়ে অবিদ্যা-দুঃখ
॥৪॥
পূর্ব্ব
ইতিহাস, ভুলিনু সকল,
সেবা-সুখ
পে’য়ে মনে ।
আমি ত’ তোমার, তুমি ত’ আমার,
কি কাজ অপর
ধনে ॥৫॥
ভকতিবিনোদ, আনন্দে ডুবিয়া,
তোমার সেবার
তরে ।
সব চেষ্টা
করে, তব ইচ্ছা-মত,
থাকিয়া তোমার
ঘরে ॥৬॥

No comments:
Post a Comment