Sunday, November 8, 2020

🍁🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚🍁

🌷🍁শ্রীশ্রী দামোদর লীলা 🍁🌷

🍁🦚💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐🦚🍁

খুব গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট 

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ

সকল সাধু,গুরু,বৈষ্ণব গৌর ভক্তবৃন্দের শ্রীচরণে আমার অনন্ত কোটি সাষ্টাঙ্গ দণ্ডবৎ প্রণাম I

‘’নমস্ত্রিকাল - সত্যায় জগন্নাথ সুতায় চ।

- ভৃত্যায় -পুত্রায় - কলত্রায় তে নমঃ।।‘’

এক সময়ে যখন দাসীরা নানা গৃহকার্যে ব্যস্ত ছিল, তখন মা যশোদা নিজেই দধিমন্থন করতে শুরু করলেন এবং সেই দধিমন্থন কালে তিনি শ্রীকৃষ্ণের অপূর্ব্ব মাধুর্যমণ্ডিত বাল্যলীলা গান করছিলেন এবং এইভাবে তাঁর পুত্রের কথা স্মরণ করে গভীর আনন্দে মগ্ন হলেন। দধিমন্থন করার সময় তাঁর শাড়ির আঁচলটা তিনি শক্ত করে কোমরে বেঁধে নিয়েছিলেন। দধিমন্থনজনিত পরিশ্রমের ফলে তাঁর সর্বাঙ্গ কম্পিত হচ্ছিল এবং পুত্রের প্রতি গভীর স্নেহবশত তাঁর স্তনযুগল থেকে দুগ্ধ ক্ষরিত হচ্ছিল। তাঁর মুখমণ্ডলে স্বেদবিন্দু দেখা দিয়েছিল এবং তাঁর গলার ফুলের পুষ্প-মালাটি ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছিল। সেই সময় শিশু শ্রীকৃষ্ণ ক্ষুধার্ত হয়ে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি তাঁর মায়ের প্রতি স্নেহের বশে দাবি করলেন যে, তিনি যেন দধি মন্থন বন্ধ করে তাঁকে স্তন্য দান করেন। তিনি তাঁকে ইঙ্গিত দিলেন যে, তাঁর প্রথম কর্তব্যই হচ্ছে তাঁকে স্তন্যদান করা

মা যশোদা কৃষ্ণকে তাঁর কোলে তুলে নিলেন এবং তাঁকে স্তন্যদান করলেন। কৃষ্ণ যখন স্তন্যপানে রত ছিল, তখন তাঁর সুন্দর মুখমণ্ডল দর্শন করে মা যশোদা আনন্দসাগরে নিমগ্ন হলেন। এমন সময় হঠাৎ উনানে বসানো দুধ উথলে পড়তে লাগল এবং মা যশোদা তাড়াতাড়ি কৃষ্ণকে কোল থেকে নামিয়ে দুধ নামাতে ছুটে গেলেন। এইভাবে তাঁকে ফেলে চলে যাওয়ায় কৃষ্ণের মায়ের উপর ভীষণ রাগ হল। রাগে তাঁর চোখ আর ঠোঁট লাল হয়ে উঠল। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে একটি পাথরের টুকরো তুলে নিয়ে তৎক্ষণাৎ তিনি ননীর ভাণ্ডটি ভেঙ্গে ফেললেন, এবং অশ্রুপূর্ণ নয়নে গৃহের এক নির্জন কোণে বসে সেই ননী খেতে লাগলেন।

ইতিমধ্যে দুধের পাত্রটি নামিয়ে রেখে মা যশোদা দধিমন্থন স্থানে ফিরে এলেন। পাত্রটি ভগ্ন অবস্থায় দেখে এবং তাঁর শিশুপুত্রটিকে না দেখতে পেয়ে মা যশোদা বুঝতে পারলেন যে, এটি তাঁর পুত্রেরই কর্ম। তিনি স্মিতহাস্যে ভাবতে লাগলেন, "ছেলেটা খুব চালাক। পাত্রটি ভেঙ্গে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে এখান থেকে পালিয়ে গেছে।কিছুক্ষণ খোঁজার পর তিনি দেখতে পেলেন যে, উপুড় করে রাখা একটি উদুখলের উপর কৃষ্ণ বসে আছেন এবং শিকায় ঝোলানো ননীর পাত্র থেকে ননী নিয়ে সেগুলি বাঁদরদের খাওয়াচ্ছেন। তিনি দেখলেন যে, তাঁর কাছ থেকে এই দুষ্ট কর্মের জন্য শাস্তির ভয়ে কৃষ্ণ এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। তিনি নিঃশব্দে পিছন থেকে ধীরে ধীরে তাঁর দিকে এগোতে লাগলেন। কিন্তু কৃষ্ণ তাঁকে দেখে ফেললেন এবং তৎক্ষণাৎ উদুখল থেকে লাফিয়ে পড়ে ভয়ে দৌড় দিলেন

মা যশোদাও তাঁকে ধরবার জন্য তাঁর পিছন পিছন ছুটতে লাগলেন। যোগীরা ধ্যানে যাঁকে পায় না, সেই পরমেশ্বর ভগবানকে ধরবার জন্য মা যশোদা তাঁর পিছন পিছন ছু্টতে লাগলেন। পক্ষান্তরে বলা যায়, যোগী এবং জ্ঞানীরা অনেক সাধ্যসাধনা করেও যে পরমেশ্বর ভগবানকে পায় না, সেই ভগবানই একটি শিশুরূপে তাঁর ভক্ত মা যশোদার সাথে খেলা করতে লাগলেন মা যশোদা দ্রুতগতিতে পলায়নপর সেই শিশুকে প্রথমে ধরতে পারলেন না যতদূর সম্ভব দ্রুতগতিতে তিনি তাঁর পশ্চাৎধাবন করার চেষ্টা করলেন তাঁর কেশপাশ তখন আলুলায়িত হয়ে পড়েছিল এবং তাঁর খোপার ফুল মাটিতে ঝরে পড়ছিল।

মা ক্লান্ত হয়ে পড়লে অবশেষে কৃষ্ণ দয়াপরবশ হয়ে মায়ের হাতে ধরা দিলেন ধরা পড়ে কৃষ্ণ ভয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে তাঁর দুই হাত দিয়ে চোখের জল মুছতে লাগলেন, এবং তার ফলে তাঁর চোখের কাজল সারা মুখে লেগে গেল। মাকে ছড়ি হাতে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলেন। মা যশোদা তখন ভাবলেন যে, শিশুটি অনর্থক ভয় পাচ্ছে। পুত্রের শুভাকাঙ্ক্ষী রূপে তিনি ভাবলেন যে, তাঁর শিশুটিকে এতটা ভয় দেখানো ঠিক হবে না, অথচ তাঁকে একটু দণ্ড না দিলেও নয়। তাই তিনি হাতের ছড়িটা ফেলে একটা দড়ি দিয়ে তাঁকে বেঁধে রাখতে মনস্থ করলেন। তিনি জানতেন না যে, পরমেশ্বর ভগবানকে বাঁধা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

 

মা যশোদা ভাবছিলেন যে , কৃষ্ণ হচ্ছেন তাঁর ছোট্ট শিশু পুত্র; তিনি জানতেন না যে, তাঁর সেই শিশুটি আদি, অন্তহীন। তিনি অনন্ত সর্বব্যাপ্ত। তিনিই সমস্ত জগৎস্বরূপ। তবুও মা যশোদা তাঁকে তাঁর পুত্র বলে মনে করছিলেন। যদিও তিনি সমস্ত ইন্দ্রিয়ের অগোচর, তিনি তাঁকে একজন সাধারণ বালকের মতো দড়ি দিয়ে উদুখলে বাঁধতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি তাঁকে বাঁধতে গেলেন, তখন দেখলেন যে , সেই দড়িটি দু' আঙ্গুল পরিমান ছোট। তিনি আরও দড়ি এনে তার সঙ্গে সেগুলি জুড়ে বাঁধবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তখনও দেখলেন যে, তা সে পরিমানেই কম

 

এইভাবে গৃহের সমস্ত দড়ি একত্রিত করেও যখন মা যশোদা তাঁকে বাঁধতে পারলেন না, তখন গোপীরা হাসতে লাগলেন, এবং যশোদাও হাসতে হাসতে বিস্ময়াপন্ন হলেন। এটা কি করে সম্ভব। তাঁর শিশুপুত্রকে বাঁধতে গিয়ে তিনি পরিশ্রান্ত হয়ে ঘর্মাক্ত হয়ে উঠলেন এবং তাঁর চুলের মালা স্খলিত হয়ে পড়ে গেল। তখন বালক কৃষ্ণ তাঁর মাকে পরিশ্রান্ত দেখে কৃপাপূর্বক বন্ধনগ্রস্ত হলেন। মা যশোদার গৃহে একজন সাধারণ শিশুর মতো কৃষ্ণ তাঁর লীলাবিলাস করেছিলেন। কেউই পরমেশ্বর ভগবানকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। শুদ্ধ ভক্ত ভগবানের চরণারবিন্দে নিজেকে সর্বতোভাবে সমর্পণ করেন। ভক্ত সর্বদাই তাঁর শরণাগত থাকেন। তেমনই ভগবানও আবার ভক্তকে আনন্দ দান করবার জন্য তাঁদের কাছে আত্মসমর্পন করেন।

মা যশোদার কাছে কৃ্ষ্ণের আত্মসমর্পণ তার এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত। কৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের সব রকমের মুক্তি প্রদান করেন। কিন্তু মা যশোদার প্রতি তিনি যে অনুগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তা ব্রহ্মা ,মহেশ্বর এমনকি সর্বদা ভগবানের বক্ষ-বিলাসিনী লক্ষীদেবীরও দূর্লভ। পরমেশ্বর ভগবান, যিনি যশোদানন্দন নন্দনন্দন নামে খ্যাত, যোগী এবং জ্ঞানীরা কখনও তাঁকে পূর্ণরূপে জানতে পারেন না। কিন্তু তাঁর ভক্তদের কাছে তিনি সুলভ। যোগী এবং জ্ঞানীরা কখনও তাঁকে সমস্ত আনন্দের পরম উৎস বলে উপলব্ধি করতে পারেন না। 

মা যশোদা তাঁর ছেলেকে বেঁধে রেখে গৃহকার্যে ব্যস্ত হলেন। সেই সময়, উদুখলে বাঁধা শ্রীকৃষ্ণ বাড়ীর সামনে দুটি অর্জুন বৃক্ষ দেখতে পেলেন। সমস্ত আনন্দের পরম উৎস পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন মনে মনে ভাবলেন, "মা প্রথমে আমাকে দুধ না খাইয়ে চলে গিয়েছিলেন, তাই আমি ননীর ভাণ্ড ভেঙ্গে ফেলে সেগুলি বাঁদরদের খাইয়েছি। আর এখন আবার তিনি আমাকে এই উদুখলে বেঁধে রেখেছেন। তাই এখন আমি আগের থেকে আরও বেশি রকমের দুষ্টুমি করব।

এই ভেবে তিনি মনস্থ করলেন যে, সেই দু'টি বিশাল অর্জুন বৃক্ষকে তিনি উপড়ে ফেলে দেবেন। এই দুটি অর্জুন গাছের একটি ইতিহাস আছে। তাদের পূর্বজন্মে তারা ছিল কুবেরের দুই পুত্রনলকুবের এবং মণিগ্রীব সৌভাগ্যক্রমে তারা ভগবানের কৃপাদৃষ্টি লাভ করেছিলেন পূর্ব জীবনে অত্যধিক মাত্রায় মদ্যপান করার ফলে তাঁদের স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল। এজন্য মহর্ষি নারদ তাঁদের অভিশাপ দিয়েছিলেন। এই আশীর্বাদরূপী অভিশাপ দেওয়ার ফলে তারা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করবার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। 

দামোদর মাসে ভগবান শ্রীদামোদর (পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ) কে মঙ্গলদীপ দেখানো কর্তব্য এই পবিত্র কার্তিক মাসে আপনার গৃহে ভগবান দামোদরকে  শ্রীশ্রী দামোদরাষ্টকম্ স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে প্রদীপ নিবেদন করলে বহু বর্ষের পাপক্ষয় হয় ]


 🏵️শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্ 🏵️

নমামীশ্বরং সচ্চিদানন্দরূপং

লসৎ-কুণ্ডলং গোকুলে ভ্রাজমানম্।

যশোদাভিয়োলূখলাব্ধাবমানং

পরামৃষ্টমত্যং ততো দ্রুত্য গোপ্যা

অনুবাদযিনি সচ্চিদানন্দ-স্বরূপ, যাঁর কর্ণযুগলে কুণ্ডল আন্দোলিত হচ্ছে, যিনি গোকুলে পরম শোভা বিকাশ করছেন এবং যিনি শিকায় রাখা নবনীত  অপহরণ করায় মা যশোদার ভয়ে উদূখলের উপর থেকে লম্ফ প্রদান করে অতিশয় বেগে ধাবমান হয়েছিলেন এবং মা যশোদাও যাঁর পশ্চাতে ধাবিত হয়ে পৃষ্ঠদেশ ধরে ফেলেছিলেন, সেই পরমেশ্বর শ্রীদামোদরকে প্রণাম করি। 

রুদন্তং মুহুর্নেত্রযুগ্মং মৃজন্তং

করাম্ভোজযুগ্মেন সাতঙ্কনেত্রম্।

মুহুঃশ্বাসকম্প ত্রিরেখাঙ্ককণ্ঠ-

স্থিত-গ্রৈব-দামোদরং ভক্তিবদ্ধম্

অনুবাদ- যিনি জননীর হস্তে যষ্টি দেখে রোদন করতে করতে দুখানি পদ্মহস্ত দ্বারা বারবার নেত্রদ্বয় মার্জন করছেন, যিনি ভীতনয়ন হয়েছেন সেইজন্য মুহূর্মুহুঃ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কম্প-নিবন্ধন যাঁর কণ্ঠস্থ মুক্তাহার দোদুল্যমান হচ্ছে এবং যাঁর উদরে রজ্জুর বন্ধন রয়েছে, সেই ভক্তিবদ্ধ শ্রীদামোদরকে বন্দনা করি।

ইতিদৃক্ স্বলীলাভিরানন্দকুণ্ডে

স্বঘোষং নিমজ্জন্তমাখ্যাপয়ন্তম্।

তদীয়েশিতজ্ঞেষু ভক্তৈর্জিতত্ত্বং

পুনঃ প্রেমতস্তং শতাবৃত্তি বন্দে

অনুবাদ- যিনি এইরকম বাল্যলীলা দ্বারা সমস্ত গোকুলবাসীকে আনন্দ- সরোবরে নিমজ্জিত করেন এবং যিনি ভগবদৈশ্বর্য- জ্ঞান- পরায়ণ ভক্তসমূহেআমি ভক্ত কর্তৃক পরাজিত-- অর্থাৎ ভক্তের বশীভূত- এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন, সেই ঈশ্বররূপী দামোদরকে আমি প্রেম-সহকারে শত শতবার বন্দনা করি।

বরং দেব! মোক্ষং মোক্ষাবধিং বা

চান্যং বৃণেহহং বরেশাদপীহ।

ইদন্তে বপুর্নাথগোপালবালং

সদা মে মনস্যাবিরাস্তাং কিমন্যৈঃ

অনুবাদ- হে দেব! তুমি সবরকম বরদানে সমর্থ হলেও আমি তোমার কাছে মোক্ষ বা মোক্ষের পরাকাষ্ঠা স্বরূপ শ্রীবৈকুণ্ঠলোক বা অন্য কোন বরণীয় বস্তু প্রার্থনা করি না, তবে আমি কেবল এই প্রার্থনা করি যে, এই বৃন্দাবনস্থ তোমার পূর্ববর্ণিত বালগোপালরূপ শ্রীবিগ্রহ আমার মানসপটে সর্বদা আবির্ভূত হোক।

হে প্রভো! যদিও তুমি অন্তর্যামীরূপে সর্বদা হৃদয়ে অবস্থান করছ, তবুও তোমার শৈশব লীলাময় বালগোপাল মূর্তি সর্বদা সুন্দর-রূপে আমার হৃদয়ে প্রকটিত হোক।

ইদন্তে মুখাম্ভোজম ব্যক্তনীলৈ-

র্বৃতং কুন্তলৈঃ স্নিগ্ধ-রক্তৈশ্চ গোপ্যা।

মুহুশ্চুম্বিতং বিম্ব-রক্তাধরং মে

মনস্যাবিরাস্তামলং লক্ষলাভৈঃ

অনুবাদ- হে দেব! তোমার যে বদন -কমল অতীব শ্যামল, স্নিগ্ধ রক্তবর্ণ কেশসমূহে সমাবৃত এবং তোমার  যে বদনকমলস্থ বিম্বফলসদৃশ রক্তবর্ণ অধর মা যশোদা বারবার চুম্বন করছেন, সেই বদনকমলের মধুরিমা আমি আর কি বর্ণন করব? আমার মনোমধ্যে সেই বদনকমল আবির্ভূত হোক। ঐশ্বর্যাদি অন্যবিধ লক্ষ লক্ষ লাভেও আমার কোনও প্রয়োজন নেই- আমি অন্য আর কিছুই চাই না।

 

নমো দেব দামোদর অনন্তবিষ্ণো

প্রসীদ প্রভো দুঃখ জালাব্ধি মগ্নম্।

কৃপাদৃষ্টি- বৃষ্ট্যাতিদীনং বতানু-

গৃহাণেশ মামজ্ঞমেধ্যক্ষি দৃশ্যঃ

অনুবাদ- হে দেব! হে দামোদর! হে অনন্ত! হে বিষ্ণো! আমার প্রতি প্রসন্ন হও। হে প্রভো! হে ঈশ্বর! আমি দুঃখ পরম্পরারূপ সমুদ্রে নিমগ্ন হয়ে একেবারে মরণাপন্ন হয়েছি, তুমি কৃপাদৃষ্টিরূপ অমৃত দ্বারা আমার প্রাণ রক্ষা কর।

কুবেরাত্মজৌ বদ্ধমূর্ত্যবৈ যদ্বৎ

ত্বয়া মোচিতৌ ভক্তিভাজৌ কৃতৌ চ।

তথা প্রেমভক্তিং স্বকাং মে প্রযচ্ছ

মোক্ষে গ্রহোমেহস্তি দামোদরেহ

অনুবাদ- হে দামোদর! তুমি যেরকম গো অর্থাৎ গাভী-বন্ধন- রজ্জুদ্বারা উদূখলে বদ্ধ হয়ে শাপগ্রস্ত নলকুবের মণিগ্রীব নামক কুবেরপুত্র দ্বয়কে মুক্ত করে তাদের ভক্তিমান্ করেছ, আমাকেও সেইরকম প্রেমভক্তি প্রদান কর। এই প্রেমভক্তিতেই আমার আগ্রহ, মোক্ষের প্রতি আমার আগ্রহ নেই।

নমস্তেহস্তু দাম্নে স্ফুরদ্দীপ্তি-ধাম্নে

ত্বদীয় উদরায়াথ বিশ্বস্য ধাম্নে।

নমো রাধিকায়ৈ ত্বদীয়-প্রিয়ায়ৈ

নমোহনন্ত লীলায় দেবায় তুভ্যম্

অনুবাদ- হে দেব! তোমার তেজোময় উদরবন্ধন -রজ্জুতে এবং এবং বিশ্বের আধার- স্বরূপ তোমার উদরে আমার প্রণাম থাকুক। তোমার প্রিয়তমা শ্রীরাধিকাকে আমি প্রণাম করি এবং অনন্ত লীলাময় দেব তোমাকে নমস্কার করি।

                                                        ---( শ্রীমৎ সত্যব্রত মুনি প্রণীত )

 



 

No comments:

Post a Comment

💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐 🍁 জয়া একাদশী 🍁 💐🏵️🌺🌷🌺🏵️💐 শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গ জয়তঃ সকল সাধু , গুরু , বৈষ্ণব ও গৌর ভক্তবৃন্দের ...